বেঙ্গালুরু: এ যেন সত্যি এক নাটক, যা টানটান উত্তেজনায় ভরপুর৷ কর্ণাটকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকে এভাবেই মজা করছে৷ বৃহস্পতিবার আস্থা ভোট নিয়ে দিনভর নাটক চলে৷ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী বিজেপিকেই দায়ি করেছে এই অবস্থায় সরকারকে অস্থির করে তোলার জন্য৷ তিনি বলেন, ১৫ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক তাঁর বিরূদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। আস্থা-ভোট প্রসঙ্গে কুমারস্বামী প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি কেন এই আলোচনা আজই শেষ করতে চায়। এখনও আস্থা-ভোট কেন হচ্ছে তার কারণগুলি আলোচনা করা হয়নি। আমি শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না কিন্তু তারা স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।”

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমার আত্মসম্মান আছে তাই আমার মন্ত্রীদেরও আছে। এইভাবে আলোচনাকে থামিয়ে দেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই জোট সরকারকে টালমাটাল করে তোলার জন্য কে দায়ি।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার শেষ পযর্ন্ত আটকে যায় ফ্লোর টেস্ট৷ এই নিয়ে এদিকে ধরনায় বসে বিজেপি৷ যদিও কর্ণাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা বৃহস্পতিবারই এই আস্থাভোট সম্পূর্ণ করার কথা বলেছিলেন৷ যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি৷ এদিকে আস্থাভোটের জন্য আরও একদিন সময় পেয়ে গেলেন কুমারস্বামী৷ বিধানসভায় বৃহস্পতিবার এই আস্থা ভোট নিয়ে সাড়ে সাত ঘন্টার তর্ক-বিতর্কের পর স্পীকার রমেশ কুমার এই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন৷ তর্ক-বিতর্কের সময় অনুপস্থিত কংগ্রেস বিধায়ক শ্রীমন্ত পাতিলের প্রসঙ্গ ওঠে৷

কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি তাদের বিধায়ককে আটকে রেখেছে৷ ইয়েদুরাপ্পা বলেন, স্পীকার রমেশ কুমার আস্থা ভোট পিছিয়ে দিতে চাইছেন৷ এদিকে কুমারস্বামী শুক্রবার দুপুর ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় পেয়ে গেলেও তাঁর বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত ধরে নিয়েছেন অনেকেই৷ তবে বৃহস্পতিবার আস্থা ভোটের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় বিজেপি বিধায়করা রাতভর বিধানসভাতেই ধরনার সিদ্ধান্ত নেন৷ চাদর পেতে শুয়ে পড়েন মাটিতে৷ শুক্রবারের দুপুরের পর আদৌ কী টিকবে কুমারস্বামীর সরকার, সেইদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল৷