নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের সাফাই দিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল ও কংগ্রেস নেতা করণ সিং। তবে একটু অন্য সুরে। তাঁর বক্তব্যে বারবারই উঠে আসছে এক বিবেচনামূলক সমালোচনা। তিনি কিন্তু মোটেই সিদ্ধান্তের পুরোপুরি বিরোধিতা ও সমালোচনা করার পক্ষপাতি তিনি নন।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে একটি বিবৃতিতে করণ সিং বলেন, “এই সিদ্ধান্তের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত।” তিনি বলেন, জম্মু কাশ্মীরের সদর-ই-রিয়াসত থাকাকালীন ১৯৬৫ তে তিনি লাদাখ নিয়ে পদক্ষেপ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “খুব দ্রুত এবং সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।” সিদ্ধান্তটি বিভিন্নস্তরে কার্যকর করতে হবে বলেও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান জম্মু কাশ্মীরের শেষ সদর-ই-রিয়াসত করণ সিং।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম রাজ্যপাল তথা কংগ্রেস নেতা করণ সিং বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর যাতে দ্রুত রাজ্যের পূর্ণমর্যাদা পায়, তার চেষ্টা থাকা উচিত ও এখানকার বাসিন্দারা চিন্তামুক্তভাবে অভিন্ন ভারতের অংশ হতে পারে সেই দিকে নজর দেওয়া উচিত।”

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে কাশ্মীর নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছে অনেকেই। সেই পরিস্থিতিতে করণ সিং বলেন, এগিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়া যাওয়া উচিত। দুটি প্রধান আঞ্চলিক দলকে দেশদ্রোহী বলে মন্তব্য করে তাদের বাতিল করে দেওয়া ঠিক নয়। দলের মতের বাইরে গিয়ে কথা বলে, কাশ্মীর নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানালেন করণ সিং। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। কিন্তু তাঁকে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এয়ারপোর্ট থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

১৯৪৭-এ কাশ্মীর অন্তভুর্ক্তির সময় চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন তাঁর বাবা রাজা হরি সিং। সেই চুক্তি ভেঙে জম্মু কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরকে বিধানসভাসহ এবং লাদাখকে বিধানসভা বিহীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।