নয়াদিল্লি:‌ ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচি নিয়ে এবার কংগ্রেস নেতা কপিল সিবলের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে পরীক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরীক্ষা ও সামগ্রিক পঠনপাঠন নিয়ে পড়ুয়াদের একগুচ্ছ টিপস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জীবনে এগিয়ে যেতে দিয়েছেন বেশ কিছু পরামর্শও। মোদীর এই উদ্যোগেরই কড়া সমালোচনা করেছেন কপিল সিবল। এই প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘সামনেই বাচ্চাদের পরীক্ষা। পড়ুয়াদের সময় নষ্ট করছেন মোদী।’

পরীক্ষার টেনশন সামলানো নিয়ে সোমবার পড়ুয়াদের একগুচ্ছ টিপস দেন প্রধানমন্ত্রী। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের বেশ কিছু বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উত্তর দিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়াদের একাধিক প্রশ্নেরও। মোদী ‘স্যার’-এর এই বিশেষ ক্লাসে হাজির ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দু’হাজার পড়ুয়া।

এদিন সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় পড়ুয়াদের নানা বিষয়ে আশ্বস্ত করেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁকে লড়াই করতে হয় বলে পড়ুয়াদের জনান নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর অনেক কিছু শেখারও সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের যেখানেই যান সেখানেই যুব সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলাদা করে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেন বলে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সোমবার তালকাটোরা স্টেডিয়ামে পরীক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার অঙ্কে এখন আর জীবন চলে না। পরীক্ষা পাওয়া নম্বর দিয়ে সব কিছু নির্ধারিত হয় না। নম্বর ভালো না হলে জীবন শেষ হয়ে গেল এমন ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল৷’
পরীক্ষা বা অন্য বিষয় নিয়ে টিপস দেওয়ার পাশাপাশি এদিন স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়েও পড়ুয়াদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘স্মার্ট ফোন অনেকটা সময় চুরি করে নেয়। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে৷ কিন্তু প্রযুক্তির দাসত্ব আমরা করব না।’

মোদীর এই উদ্যোগেরই কড়া সমালোচনায় কংগ্রেস নেতা কপিল সিবল। এই প্রসঙ্গে সিবল বলেন, ‘বাচ্চাদের পড়াশোনা আছে। এই সময়ে ওদের পড়াশোনা করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওদের সময় নষ্ট করছেন।’

যদিও কপিল সিবলের মোদী-বিরোধিতায় করা এই বক্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির শীর্ষস্তরের কোনও নেতার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।