কোঝিকোড়: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানীয় নেতার মন্তব্যে শোরগোল পড়ল। ‘সংসদে পাশ হওয়া কোনও আইন মানব না, এটা সাংবিধানিকভাবেই কোনও রাজ্যের পক্ষে বলা কঠিন,’ কোঝিকোড়ে কেরল সাহিত্য উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার কংগ্রেসের অস্ভস্তি বাড়ালেন দলেরই বর্ষীয়ান নেতা তথা খ্যাতনামা আইনজীবী কপিল সিবাল। কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে সিবাল বলেন, ‘সংসদে পাশ হওয়া কোনও আইন মানব না, কোনও রাজ্য সরকারের পক্ষে এটা বলা কঠিন’। শুরু থেকেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সংসদের ভিতরে-বাইরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যে-রাজ্যে সিএএ বিরোধিতায় চলছে পথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। কংগ্রেস শাসিত একাধিক রাজ্য সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্র বিরোধিতায় সামিল। এরই মধ্যে দলেরই বর্ষীয়ন নেতা সিবালের মন্তব্য অস্বস্তি বাড়াল সনিয়া-রাহুলদের।

এনপিআর নিয়েও ইতিমধ্যেই কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব একাধিক রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল-সহ কয়েকটি রাজ্য সাফ জানিয়েছে এনপিআর নিয়ে কেন্দ্রকে কোন সহযোগিতা তারা করবে না। কেন্দ্র-বিরোধিয়া রাজ্যগুলির এই অবস্থান নিয়েও মুখ খুলেছেন সিবাল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি ও এনপিআর নিয়ে একাধিক রাজ্য অখুশি। অনেক রাজ্যবলা হচ্ছে আমরা রাজ্য স্তরের আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে না বলছে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব হবে আমি তা জানি না।’

ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করছে বাম শাসিত কেরল। নাগরিকত্ব আইন কোনওভাবেই কেরলে কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। একইভাবে এনপিআর নিয়েও তাঁর কেন্দ্র-বিরোধিতা স্পষ্ট। বিজয়নের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও একইভাবে কেন্দ্র বিরোধিতায় সরব। বাংলাতেও নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনপিআর-এর কাজও বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও এনপিআর-এর কাজ চালু করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদী শাহ।

দেশজুড়ে যখন নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে বিজেপি-বিরোধিতা আরও তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই আবহেই কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার এহেন মন্তব্য দলের অস্বস্তি যে খানিকটা হলেও বাড়িয়ে দিল তা বলাই বাহুল্য।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ