স্টাফ রিপোর্টার, গঙ্গাসাগর: ১৫ তারিখ বুধবার সকাল থেকে শুরু হবে মকর সংক্রান্তির স্নানের যোগ। মেলা শুরুর আগে সোমবার গঙ্গাসাগরে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কপিল মুনির আশ্রমে পুজোও দেন তিনি। তাঁকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান কপিল মুনি আশ্রমের মহন্ত জ্ঞানদাস মহারাজ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে জ্ঞানদাসজি বলেন, নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষকে চরম বিপদে ফেলেছেন, ‘‘এখন আবার নাগরিকত্ব আইন এনে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতে চাইছেন। আমরা চাই, সব ধর্ম, সব জাতের মধ্যে সমন্বয় থাকুক। এই গঙ্গাসাগর হিন্দুদের তীর্থভূমি হলেও এটা সব ধর্মের মানুষের সমন্বয়স্থল। আমরা চাই, হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান এক সঙ্গে থাকুক। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ দেশকে লুটতে চাইছেন। ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে চাইছেন।’’

এদিন গঙ্গাসাগর পুণ্যার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত যেসব পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগর যাবেন, তাঁদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকার বীমা দেওয়া হবে বলে সোমবার ঘোষণা করলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গঙ্গাসাগরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। অনেক থাকার জায়গা হয়েছে, আশ্রম তৈরি হয়েছে’’।

শুক্রবার দিনভর অকাল বৃষ্টির জেরে মেলার প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটলেও শনিবার সকাল থেকে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে। এ বার মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বাড়তি জোর দিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, মেলা চত্বর মুড়ে ফেলা হচ্ছে পুলিশি নিরাপত্তায়। ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে কড়া নজরদারি চলবে। এ ছাড়াও জলপথে উপকূলরক্ষী বাহিনীর হোভারক্র্যাফ্ট ও পুলিশের স্পিডবোট দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা ও সমুদ্রের উপর চক্কর কাটবে ড্রোন ও হেলিকপ্টার। এ ছাড়াও থাকছে হিলিয়াম বেলুনে ক্যামেরার নজরদারি। দশ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন মেলায়। এরমধ্যে প্রচুর সংখ্যক মহিলা পুলিশও রাখা হচ্ছে।

শনিবার আলিপুর প্রশাসনিক ভবন থেকে ‘গঙ্গাসাগর মেলা সহায়তা’‌ নামে একটি অ্যাপের উদ্বোধন করেন জেলাশাসক পি উলগানাথন। এই অ্যাপ যে কোনও অ্যানড্রয়েড ফোনে ডাউনলোড করে মেলা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-সহ সাগর স্নানের ছবি ঘরে বসেই দেখতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও পথ নির্দেশিকা-সহ গাড়ির রুট ও নদী পারাপারের সময়সূচী জানতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। বাংলা ছাড়াও ছটি ভাষায় এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে।