সৌমেন শীল, ব্যারাকপুর: রাজ্যে মেয়েদের স্বাবলম্বী করতে এবং বাল্যবিবাহ রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প।’ নিয়ম অনুযায়ী এই কন্যাশ্রী প্রকল্পের দুটি ধাপে টাকা দেওয়া হয় রাজ্যের মেয়ে পড়ুয়াদের। প্রথম ধাপে বছরে ৭৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই ছাত্রীদের এই টাকা প্রাপ্য। দ্বিতীয় ধাপে এককালীন দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে ছাত্রীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছর। সেইসঙ্গে তাঁকে কোনও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী হতে হয়।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের টাকা খরচের পদ্ধতি নিয়ে কোনও শর্ত চাপানো হয়নি সরকারের তরফ থেকে। সেই সুযোগ নিয়ে এককালীন ২৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে মেয়ের বিয়ে দিতেও। অসাধু উপায়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পের টাকা খরচ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের। কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকায় মেয়ের বিয়ে দেওয়াকেও ভোটের ময়দানে হাতিয়ার করেছেন তাঁরা। তবে মজা এটাই, ভুল হচ্ছে, না ঠিক হচ্ছে, সেটা না জেনে-বুঝেই এ নিয়ে ঢাক পেটাচ্ছেন এই ধরনের দলীয় কর্মীরা৷ আর স্বাভাবিকভাবেই তার সুযোগ নিচ্ছে সিপিএম৷ নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর বারাকপুর পুরসভা এলাকার মাঝেরপাড়ায় টাঙানো হয়েছে এমনই একটি ফ্লেক্স। যার উপরে লেখা আছে, “বেশী তো কিছুই চাইনি ৩৪ বছরে”, মাঝখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক। তার নীচেই লেখা, “কন্যাশ্রীর পঁচিশ হাজার টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম না।” ফ্লেক্সের ডানদিকে সাদা-কালো ছবিতে রয়েছে খোঁচা খোঁচা কাঁচাপাকা দাড়ির মাঝবয়সী এক ব্যক্তির মুখ (অর্থাৎ কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা)।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা যাতে মেয়েদের স্বনির্ভরতার জন্য লাগে, মেয়েরা যাতে লেখাপড়া চালিয়ে যায়, সেই বিষয়েই সরকারের তরফ থেকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ‘কন্যাশ্রী’ সচিব রোশনী সেন। তাঁর কথামতো, এর জন্য জেলায় জেলায় বছরভর সচেতনতা শিবিরও করা হচ্ছে সরকারের তরফে। কিন্তু সেই স্বনির্ভরতার টাকা মেয়েদের অভিভাবকরা যে তাদের ঘাড় থেকে নামাতেই অনেক বেশি ব্যবহার করছেন, তারই প্রমাণ নোয়াপাড়ার ওই তৃণমূলী ফ্লেক্স। এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা নোয়াপাড়ার বিদায়ী বিধায়িকা মঞ্জু বসুর কৈফিয়ত, “কন্যাশ্রীর টাকা তো ১৮ বছর বয়সের পর দেওয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যেতেই পারে। এতে কোনও অসুবিধা নেই।” কিন্তু, পড়ুয়া কিংবা বৃত্তিশিক্ষার্থী হিসেবে পাওয়া টাকা বিয়েতে খরচ করা হয় কী করে? নোয়াপাড়ার বউদি, ‘দিদিপন্থী’ মঞ্জু বসু-র যুক্তি, মূলত বাল্যবিবাহ রুখতেই কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ১৮ বছর বয়সের পর বিয়ে হলে সেটা আর বাল্যবিবাহ হয় না। তবে কেউ লেখাপড়া করতে চাইলে চালিয়ে যেতে পারে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ