কানপুর: হায়দরাবাদ থেকে উন্নাও একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় শিউরে উঠেছে সারা দেশ। এর মধ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ জমা না নেওয়ায় এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। গত সপ্তাহেই আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময় জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নির্যাতিতার। এবারের ঘটনা উত্তরপ্রদেশের উন্নাও থেকে কিছুটা দূরে কানপুরের দেহাতে।

অভিযোগ গত নভেম্বর মাসে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে ওই এলাকারই কিছু দুষ্কৃতী। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। অপমানে আত্মঘাতী হয় সে। গত শুক্রবার কানপুর নগরে ওই কিশোরীর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কিছুদিন আগেই সে ওই আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিল। ওই কিশোরীর পরিবারের তরফ থেকে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ নির্যাতিতাকে গত ১৩ নভেম্বর অপহরণ করে দুষ্কৃতিরা। তার ঠিক তিন দিন পর ১৬ নভেম্বর ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে যৌন হেনস্থা এবং ধর্ষণের মত ধারায় মামলা রজু না করে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩(অপহরণ) এবং ৩৬৬(ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিবাহ) এই ধরনের লঘু ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।

ওই কিশোরী আত্মঘাতী হওয়ার পর এফআইআরে কানপুর দেহাতের পুলিশ স্টেশন ৩৭৬(ধর্ষণ) ধারা যুক্ত করেছে।

গত শনিবারে কানপুর দেহাত পুলিশের তত্ত্বাবধানে নির্যাতিতার দেহের ময়না-তদন্ত হয়। ময়না তদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে এফআইআরের ভিত্তিতে ঝুলন্ত অবস্থাতেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সানি এবং লালা নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত রিঙ্কু এখনও পলাতক।

পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, গত ১৩ নভেম্বর কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। টানা তিন দিন ধরে যৌন হেনস্থার পর ১৬ ডিসেম্বর ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘১৩ নভেম্বর সানি,লালা এবং রিঙ্কু তাঁকে অপহরণ করে। আমরা ইতিমধ্যেই সানি এবং লালাকে গ্রেফতার করেছি। ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।’

কানপুর দেহাতের পুলিশ সুপার অনুরাগ বৎস জানান, ‘গত ১৬ নভেম্বর ওই কিশোরীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩(অপহরণ) এবং ৩৬৬(ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিবাহ) এই দুইটি ধারায় মামলা রুজু হয়। ওইদিনই নির্যাতিতার মেডিক্যাল টেস্ট হয়। তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়। কিন্তু এর মাঝেই গত শুক্রবার আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।