তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘নির্বাচনের আগে দিদিভাই বলতেন যাও মোদী, যাও মোদী। আর এখন সুর পাল্টে তিনি বলছেন জয় মোদী, জয় মোদী’। এই সব বলার পিছনে তাঁর নিজের দলকে বাঁচানোর চেষ্টা কাজ করছে। রবিবার বাঁকুড়ার সিমলাপালে ভারতের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির বাঁকুড়া জেলা পঞ্চদশ সম্মেলন উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবেই বিঁধলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা কমরেড কনীনিকা ঘোষ।

এদিন তিনি আরও বলেন, ইউপিএ-১ সরকারের আমলে ৬১ জন বামপন্থী সাংসদের চাপে কেন্দ্র সরকার একশো দিনের কাজ চালু করতে বাধ্য হয়েছিল। এখন আমরা যখন ওই প্রকল্পে দু’শো দিন কাজের দাবি করছি তখন শাসক দলের বড়, মেজো, সেজো, ছোটো সহ অন্যান্য নেতারা গরীব মানুষের ওই টাকা ‘লুঠে’র ধান্দা করছে। জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার সাধারণ গরীব, ক্ষেতমজুরদের হাতে জমির পাট্টার পাশাপাশি মহিলাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার ‘কাটমানি’র সরকার বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল ধর্মের নামে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও তাঁর অভিযোগ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা বিক্রি করে দিচ্ছে, এনআরসি চালুর চেষ্টা করছে। এমনকি, দেশকে বিক্রির খেলায় যখন মত্ত, তখন তৃণমূলের বিরোধিতা করতে পারছে না। কারণ তৃণমূল সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। তারা শুধু নিজেদের কথা ভাবে বলে এদিন তিনি দাবি করেন।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও মহিলা নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম সাঁওতালি ও বাংলা ভাষায় সমান্তরালভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করেন। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পিছনে এই দুই সরকার সমানভাবে দায়ী বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, সকলের জন্য কাজ, শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি না করে কেউ কেউ নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বামপন্থীরা সব সময়ে মাঠে ময়দানে আছে, আগামী দিনেও থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।

ভারতের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির বাঁকুড়া জেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে প্রকাশ্য সমাবেশে সিমলাপালে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার সদস্যা এদিন যোগ দেন। এদিন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা কনীনিকা ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিলা নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম, জেলা সভানেত্রী সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।