স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলায় জনসভা করতে আসবেন কানহাইয়া কুমার৷ সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেএনইউ-এর এই বিতর্কিত ছাত্র নেতা লোকসভা নির্বাচনে বিহারের বেগুসরাই থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন৷ ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে নিজের নির্বাচনের খরচও জোগাড় করেছেন৷ জনতা কানহাইয়াকে নির্বাচনে লড়াই করতে ৭০ লক্ষ টাকা দান করেছে৷ তার নির্বাচনের সেই গল্প বাংলার জনতাকে বলতে আসছেন কানহাইয়া৷ সিপিআই সূত্রে যা খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই লয়ে বাক্যবাণে বিদ্ধ করবেন এই ছাত্র নেতা৷ বিজেপি এবং তৃণমূল যে বাংলার রাজনীতিতে একে অপরের পরিপুরক তা ভোটারদের সামনে আনতে চান কানহাইয়া৷

বাংলায় ৬টি জনসভা করবেন কানহাইয়া কুমার৷ ৪ মে উত্তর ২৪ পরগণার বারাকপুরে সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচার করবেন কানহাইয়া৷ পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক এবং পাঁশকুড়াতেও ওইদিন তিনি প্রচার করবেন৷ পরের দিন, ৫ মে ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর এবং দাসপুরে প্রচার করবেন তিনি৷ রাতেই ফিরে আসবেন কলকাতায়৷ ৬ মে কলকাতা ছাড়বেন তিনি৷ তবে কানহাইয়ার সভার ইতি হবে না রাজ্যে৷ সিপিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ষষ্ঠ এবং সপ্তম দফার আগে তিনি রাজ্যে লাগাতার প্রচার চালাবেন৷ পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ বিজেপির প্রচারের মূল মুখ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভাবাই যায় না৷ সেক্ষেত্রে সারা দেশে বাম রাজনীতির ‘ক্রাউড পুলার’ কানহাইয়া কুমারকে কিছুটা পরে হলেও ময়দানে পাবে বামফ্রন্ট৷

সারা দেশে মোদী বিরোধী নেতাদের মধ্যে শীর্ষে যাঁরা আছেন – তাদের মধ্যে অন্যতম কানহাইয়া কুমার৷ কানহাইয়া এবং জেএনঅউ-তে তাঁর একসময়ের সহপাঠী উমর খলিদকে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে পালটা আক্রমণ করছে বিজেপি৷ বাদ যাচ্ছেন না মোদী-শাহও৷ অন্যদিকে মোদী-শাহ এবং বিজেপি এই তিন শব্দ ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার পক্ষে যে অতি বিপজ্জনক তা ভোটারদের ভোঝাতে উঠে পড়ে লেগেছেন কানহাইয়া৷ দেশের সংবিধান রক্ষার্থে মোদী-দিদি (নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) দু’জনেই বিপজ্জনক৷ কেন্দ্রের ফ্যাসিবাদি সরকারকে তাড়াতে হবেই৷ নতুন স্লোগানে আওড়েছেন কানহাইয়া – ‘‘জয় জাওয়ান জয় কিষাণ জয় সংবিধান৷’’

কলকাতায় কিছু মাস আগেই, সিপিআই-এর প্রতিষ্ঠা দিবসে জনসভা করে গিয়েছেন কানহাইয়া৷ সেখানে তিনি কুন্ঠাহীনভাবে বলেছেন, দিদি মুসলমানের বন্ধু হতে চাইছেন৷ মোদী হিন্দুদের বন্ধু হতে চাইছেন৷ কেউ বলছে হিন্দু বিপন্ন৷ কেউ বলছে মুসলমান বিপন্ন৷ আজ দেশের সংবিধান বিপন্ন৷ মোদী-মমতার মতো নেতৃত্ব দেশে বিভাজনের ইতিহাস তৈরি করছে৷ পুজো, ইদ, মহরম করতে সরকারি সাহায্যের কী প্রয়োজন আছে? মন থেকেই এই উৎসব পালন করা যায়৷ বিজেপির রথযাত্রা একটা ষড়যন্ত্র৷ তুলসীদাসের রামায়ণে রয়েছে, রাম চলেন পাঁয়ে হেঁটে৷ রাবণ আসেন রথে৷ বিজেপি ওই রথেই রাম রথযাত্রা করবে৷ বুঝে দেখুন মোদী রাম না রাবণ৷ বাংলায় এই নির্বাচন পরিস্থিতিতে সভা করতে এসে কানহাইয়া যে ফের সেই আগুনে ভাষণের পুনরাবৃত্তি করবেন তা বলাই বাহুল্য৷