কলকাতা: ভার্জিনিটি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে যাদবপুরের অধ্যাপক কনক সরকারকে তলব করল জাতীয় মহিলা কমিশন। বৃ্হস্পতিবারই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা।

এদিন ওই অধ্যাপককে মহিলা কমিশনের দফতরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়েই ঢুকতেই পারছেন না ইন্টারন্যশনাল রিলেশনশিপ বিভাগের এই অধ্যাপক।

সোশ্যাল মিডিয়াতেই প্রায়ই এই ধরনের মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, ক্লাসেও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন কনক সরকার। মঙ্গলবারই অভিযোগ জমা দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্রীরা। নড়েচড়ে বসে স্টুডেন্ট-টিচার্স কমিটি। তিনঘণ্টার বৈঠকে কমিটি একগুচ্ছ সুপারিশ করে।

ইতিমধ্যেই যাদবপুরে অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীদের বৈঠক হয়। সেকানে বলা হয়, কনক সরকার ক্লাস নেওয়ার উপযুক্ত নন। রিপোর্ট জমা না পড়া পর্যন্ত কনক সরকার ক্লাস নিতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

ডিপার্টমেন্টে এই মর্মে নোটিশও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বৈঠকের সুপারিশ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান ছাত্র-শিক্ষক কমিটির সদস্যরা। ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য। তারপরই, কনক সরকারের ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

কিছুদিন আগে, ফেসবুকে অধ্যাপক কনক সরকার পোস্ট করেছিলেন মহিলাদের ভার্জিনিটি নিয়ে৷ সেখানে সাধারণের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিল, “ভার্জিন মহিলারা সিল করা বোতল বা প্যাকেটের মতো। আপনি কী সিল ভাঙা কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল কিনতে চাইবেন?”

আগেও একাধিকবার নারী-বিদ্বেষী পোস্ট অথবা কমেন্ট করতে দেখা গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে। এবার ফের সেরকমই একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছেন তিনি। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হতেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন। ওই পোস্টে তিনি কুমারী মেয়েদের সিল করা বোতল বা প্যাকেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অধ্যাপক লিখেছেন, ‘আপনি কি কখনও সিল ভাঙা হয়েছে এমন কোল্ড ড্রিংক-এর বোতল কিনতে চাইবেন?’ স্ত্রী হিসেবে ভার্জিন মহিলাকে বেছে নেওয়া উচিৎ, এমন মতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে একথা লিখেছেন তিনি। ২০ বছর ধরে কলেজে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সেই অধ্যাপকের কথায়, ভার্জিন স্ত্রী নাকি অ্যাঞ্জেলের মত।