সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: হায়দরাবাদ ধর্ষণ কাণ্ডে প্রধান চার অভিযুক্তর এনকাউন্টারে মৃত্যু৷ এই ঘটনায় দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ পুলিশের ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত অধিকাংশ দেশবাসী৷ কিন্তু অন্য কথা শোনালেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায়৷

এনকাউন্টার প্রসঙ্গে কামদুনির শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায় kolkata 24×7 কে জানান, পশু চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাটি যে সময় ঘটেছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তদেরকে ঘটনাস্থলে পুলিশ সে সময় নিয়ে যায়নি কেন ? তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হল ভোর রাতে ৷ ওই সময় পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া,এটা যেন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে ৷ তবে অভিযুক্তরা যদি পালাতে গিয়ে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়ে থাকে,তাহলে পুলিশ ঠিক কাজই করেছে৷ তবুও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়৷

তিনি আরও জানালেন, এই মূহুর্তে এনকাউন্টার নিয়ে উচ্ছ্বসিত অধিকাংশ দেশবাসী৷ হায়দরাবাদ পুলিশকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন ৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দেশে তো বিচার ব্যবস্থা রয়েছে ৷ দেশের মানুষ ভারতবর্ষের সংবিধান মেনে চলার যে রীতি,সেখানে যদি আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হয়৷ তাহলে সেটা হবে এনকাউন্টার থেকেও খারাপ৷

হায়দরাবাদ পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, যখন ঘটনা পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই ওই অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে৷ এমনকি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিলে নেয়৷ তারপরই পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়৷ তাতে মৃত্যু হয়েছে চার অভিযুক্তের৷ চার অভিযুক্ত হল মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০)৷

অন্যদিকে কামদুনির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় প্রতিবাদী শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, কামদুনির ঘটনাটি প্রায় ৬ বছর আগে ঘটেছে ৷ অভিযুক্তরা বর্তমানে জেলে রয়েছে৷ কিন্তু তাদের কোনও সাজা ঘোষণা হয়নি৷ উল্টে অভিযুক্তরা জেলের মধ্যে বহাল তবিয়তেই আছে৷ এখন সংশোধনাগারের পরিকাঠামো অনেক ভাল৷ সেখানে তারা খাওয়া দাওয়া করে ভালই আছে৷

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৭ জুন কলেজ থেকে ফেরার পথে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। কামদুনির প্রাচীর ঘেরা একটি জায়গায় তাঁকে দুষ্কৃতীরা গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করে বলে অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় হয় রাজ‍্য রাজনীতি। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক মূলক শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠে কামদুনি প্রতিবাদী মঞ্চ। সেই মঞ্চকে সামনে রেখে একের পর এক আন্দোলন গড়ে ওঠে। সেই আন্দোলনেরই অন্যতম মুখ ছিলেন কামদুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায়।