ভোপাল: জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে জবাব দিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দেওয়া ইস্তেহারের ব্যাখ্যা দিলেন কমলনাথ। দলেরই নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উদ্দেশ্যে কমলনাথ বলেন, ‘৫ বছরের কাজের জন্য় মধ্য়প্রদেশে বিধানসভা ভোটের আগে ইস্তেহার প্রকাশ করা হযেছিল। সেই সময় এখনও পূরণ হয়নি।’

মধ্যপ্রদেশের অতিথি শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। বিজেপিকে সরিয়ে মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতায় এখন কংগ্রেস। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর কেটে গেলেও রাজ্যের অতিথি শিক্ষকদের ব্যাপারে সদর্থক কোনও পদক্ষেপ করেনি কমলনাথের সরকার, এমনই অভিযোগ তুলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।

মধ্যপ্রদেশ সরকার-সহ কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে অস্বস্তিতে ফেলে জ্যোতিরাদিত্য জানান, ২০১৮-র বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারেই অতিথি শিক্ষকদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যদি নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা হয়, তাহলে তিনি আন্দোলনকারীদের জন্য রাস্তায় গিয়ে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

দলেরই নেতা জ্যোতিরাদিত্যের এহেন হুঁশিয়ারিতে বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে যায় মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এমনকী রাজ্যের এক মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্যকে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য না করে বরং মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে এবার জ্যোতিরাদিত্যকেই তাঁর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইস্তেহার ৫ বছরের জন্য। ৫ মাসের জন্য নয়।’

যদিও দলেরই এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল পরিচালিত রাজ্য় সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় স্বভাবতই সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গী কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছএন, সিন্ধিয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ নিয়ে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের অবস্থা প্রকাশ করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার জ্যোতিরাদিত্যের প্রকাশ্যে রাজ্য সরকার বিরোধী মন্তব্য করার পিছনে অন্য ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন।

তাঁদের কয়েকজনের মতে, বিজেপি নাকি ইতিমধ্যেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে গোপনে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। এমনকী বিজেপিতে যোগ দিলে কংগ্রেসের এই হেভিওয়েট নেতাকে নাকি বড় কোনও পদ দেওয়ার অফার করা হয়েছে। তবে এই জল্পনা প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া নিজেও এব্যাপারে কোনও কিছুই স্পষ্ট করেননি।

মধ্যপ্রদেশের কলেজগুলির প্রায় ৫ হাজার অতিথি শিক্ষক ভোপালে গত ২ মাস ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন কয়েক আগে একজন অতিথি শিক্ষক আত্মহত্যাও করেছেন। তাঁদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা তথা রাহুল গান্ধীর অন্যতম পছন্দের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।