ভোপাল: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অযোধ্যায় তৈরি হবে রাম মন্দির। ভূমি পূজনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ভূমি পূজনে থাকবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।

ভূমি পূজনের আগে নিজের বাড়িতে হনুমান চাল্লিশা পাঠের আয়োজন করলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। নিজের বাড়িতেই এই পাঠের ব্যবস্থা করেছেন হনুমানজীর ভক্ত এই কংগ্রেস নেতা।

মঙ্গলবার সন্ধেয় অর্থাৎ ভূমি পূজনের ঠিক আগের দিন এই পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব প্রোটোকল মেনেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দর গুপ্তা। দলের অন্যান্য নেতাদেরও বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা বাড়িতেই হনুমান চাল্লিশা পাঠ করেন।

মুখপাত্র আরও জানান যে এপ্রিলে ছিল ‘হনুমান জয়ন্তী’, কিন্তু সরকারের টালমাটাল অবস্থা হওয়ায় কোনও অনুষ্ঠান করতে পারেননি কমল নাথ। তাই বিশেষ দিনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এটি একটি আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছু নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।

বছর কয়েক আগে সাংসদ থাকাকালীন ১০১ ফুটের একটি হনুমান মূর্তি বসিয়েছিলেন তিনি।

শনিবার মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কমলনাথ বললেন, ‘সব ভারতীয়ের সম্মতিতেই অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হচ্ছে।’

কমলনাথের আগে আরও এক কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংও রাম মন্দির তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির পক্ষে ছিলেন।’

কমলনাথ বলেন, ‘দেশবাসীর ইচ্ছে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। একমাত্র ভারতেই এটা সম্ভব। সব ভারতীয়ের সম্মতিতেই অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হচ্ছে।’

যদিও রাম মন্দির তৈরি নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে ভিন্নমত রয়েছে। কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল অবশ্য রাম মন্দির তৈরির পক্ষে নন। সিবালের মতো আরও অনেক নেতাই রাম মন্দির তৈরির বিপক্ষে।

আগামী ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যেই সেজে উঠছে অযোধ্যার একাধিক জায়গা। আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে বহু মন্দির, গুরুত্বপূর্ণ ভবন। সাজানো হচ্ছে সরয়ূ নদীর পাড় চত্বর। ৫ অগাস্ট ১২.১৩ মিনিটে হবে ভূমি পুজোর অনুষ্ঠান।

৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাম মন্দিরের ভিতে ইট স্থাপন করবেন। ভূমি পুজো করবেন বারাণসীর পুরোহিতরা।

অযোধ্যায় এই ভূমি পুজোর অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ ভিভিআইপি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও অযোধ্যার ভূমি পুজোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বনদফতরে নিয়োগে বাংলাকে গুরুত্ব মমতার, জয়ের হাসি বাংলা আন্দোলনকারীদের

Bangla pokkho on west bengal government new job circular

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বন দপ্তরে ‘বনসহায়ক’ পদে অস্থায়ী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। যেখানে নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে এই পদে আবেদনের জন্য অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বাংলা লিখতে, পড়তে এবং বলতে জানতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তিকে বাংলা পক্ষ তাদের বাংলা আন্দোলনের বিশেষ জয় বলে মনে করছে।

নিয়োগের জন্য যে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাটি হবে তার মধ্যে ৬০ নম্বর রয়েছে বাংলায়। বাংলা পড়তে পারার জন্য রয়েছে ৩০ নম্বর এবং বাংলা লিখতে পারার জন্য রয়েছে ৩০ নম্বর। এটিকেই বাংলাপক্ষ তাদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। বাংলাপক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পশ্চিমবঙ্গে চাকরি পেতে হলে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষায় বাংলাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
তাঁরা বনদফতর এবং রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে আরও জানান বাংলাভূমে বাঙালিদের স্বার্থের জন্য তাঁদের এই লড়াই জারি থাকবে। বাঙালি তার অধিকার বুঝে নেবে।

বাংলা পক্ষ জানিয়েছে , ‘এই সাফল্য যুগান্তকারী। কারণ বাঙালির এই দাবি বাংলার মাটির দাবি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ২১ জুলাই এর ভাষণের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই কথা রাখলেন। বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রতি রাজ্য সরকার যে দায়বদ্ধ, এই সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট। চাকরি প্রার্থীরা সকলেই এই বিজ্ঞপ্তি দেখে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’

সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে ‘বাংলা পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এই লড়াই লড়ছে। বাংলা পক্ষর মূল দাবিই হল সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করা এবং বেসরকারি চাকরিতে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ। এই নিয়ে সব সময়ই সোচ্চার তারা৷

বাংলা পক্ষ সংগঠন এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। রাজ্য সরকার বাঙালির ভোটে নির্বাচিত, তাই রাজ্য সরকার থেকে সব চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করবে- বাঙালি এটাই আশা করে। আগামীতে পিএসসিতে ১০০ নম্বরের বাংলা বাধ্যতামূলক করার আন্দোলন আরও জোরদার হবে।’

তারা মনে করছে, ‘এই সাফল্যের পর আগামীতে বাংলার সব সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (WBCS, WBPS এর নিয়োগের পরীক্ষা সহ) বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হবে বাংলা পক্ষ।’

করোনার দাপট থেকে বাঁচতে টেক্সটাইল সংস্থাগুলি ‘অ্যান্টি-করোনা’ ফ্যাব্রিক চালু করছে, সত্যিটা জানুন….

Textiles Company launch Anti Corona Fabric that protects against COVID-19

Tag- Coronavirus, Textile Company, Mumbai

মুম্বই: করোনার আতঙ্কে গোটা বিশ্ব। মারণ ব্যাধির থাবায় পর্যদস্তু জনজীবন। থমকে গিয়েছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। নিউ নর্ম্যালে কিভাবে চলবে আমাদের জীবন সেই দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা পৃথিবীর মানুষ।

তবে এবার করোনাভাইরাসকে বশে আনতে টেক্সটাইল শিল্প সংস্থাগুলি বর্তমানে ‘অ্যান্টি-করোনার ফ্যাব্রিক’ বিপণন শুরু করেছে। এতদিন পর্যন্ত সংক্রমণ দূরে রাখতে মাক্সের ব্যবহার করে আসছিল আমজনতা। কিন্তু এবার থেকে পোষাকও হবে অ্যান্টি ভাইরাল। যারফলে জামাকাপড়ের মাধ্যমে করোনা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন সাধারণ মানুষেরা।

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি বড় বড় শিল্প সংস্থা এমন কাপড় এবং পোশাক চালু করেছে। ওই সংস্থা গুলির দাবি, তাঁদের তৈরি পোষাক এবং কাপড় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা যোগাবে। যদিও কতটা সুরক্ষা যোগাবে সেই সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানায়নি তাঁরা।

এই বিষয়ে ছেলেদের জনপ্রিয় পোশাকের ব্র্যান্ড ‘জোডিয়ক’ তাঁদের একটি বিজ্ঞাপেন দাবি করেছে যে ” অ্যান্টি-করোনা ফ্যাব্রিক” করোনা ভাইরাসকে ৯৯ শতাংশ বধ করতে পারে।

এছাড়াও দোনার ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়েলস্পুন ইন্ডিয়া, অরবিন্দ, বর্ধমান টেক্সটাইল এবং ডি ’সজ্জার মতো টেক্সটাইল সংস্থা গুলিও আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ভাইরাল সংস্থা গুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পোশাকের পাশাপাশি অ্যান্টি-ভাইরাল কাপড় চালু করেছে এবং এগুলি করোনা ভাইরাসের সঙ্গে কার্যকরী ভাবে লড়াই করবে বলে দাবি করেন তাঁরা। শুধু জামাকাপড়ই নয়, করোনা রোধক গৃহসজ্জার পণ্যও তৈরি করছে বেশকিছু সংস্থা।

সেরকমই একটি টেক্সটাইল সংস্থা হল ‘হাইকিউ গ্রুপ’। সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তাঁদের পণ্য ‘ভাইরব্লক’ প্রযুক্তি মানব করোনভাইরাস ২২৯-ই এবং সারস-কোভিড -২ এর বিরুদ্ধে কার্যকর সেটি প্রমাণিত হয়েছে, যার ফলে করোনা ভাইরাস ৩০ মিনিটের মধ্যে ৯৯.৯৯ শতাংশ হ্রাস পাবে।

কীভাবে ফ্যাব্রিকটি কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে সেই বিষয়ে বর্ণনা করেছেন ডোনার ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেন্দ্র আগরওয়াল।

এদিন তিনি বলেন, “ফ্যাব্রিকটি বোনার পরে, এটির ‘অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল’ এবং ‘অ্যান্টি-ভাইরাস’ বৈশিষ্ট্যযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ গুলি কোনও ফ্যাব্রিকের উপর ভাইরাস বসে থাকলে তা দ্রুত নির্মূল করে দিতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, ” বর্তমানে তাঁদের সংস্থায় অ্যান্টি-করোনার ফ্যাব্রিকের বিশাল চাহিদা বেড়েছে। জুন ও চলতি জুলাই মাসে অ্যান্টি করোনার- ফ্যাব্রিকের বিক্রি হয়েছে ৫০ শতাংশ।

ডোনার ইন্ডাস্ট্রিজের তরফে আরও বলা হয়েছে যে, অ্যান্টি-ভাইরাল প্রযুক্তিটি কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ল্যাব দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর কার্যকরীতাও প্রমাণিত হয়েছে।

আরেকটি টেক্সটাইল সংস্থা, ‘জোডিয়াক’ এর দাবি, এই ফ্যাব্রিকটি নিরাপদ এবং হাইকুই দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি কোনও মেডিকেল ডিভাইস নয় এবং এটি কেবল শার্ট হিসাবে ব্যবহারের জন্য এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ার বিষয়ে একশো শতাংশ গ্যারান্টি দেয়নি।

যদিও এই বিষয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক সোমদত্ত সিং বলেছেন, “যে কেউ তাদের অ্যান্টি-ভাইরাল ফ্যাব্রিকের জামা-কাপড় বানিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে পারে বলে দাবি করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।”

হাইকিউ ভাইরব্লক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কথ তিনি আরও বলেন, “তাঁরা যখন ৯৯.৯৯ শতাংশ সুরক্ষার দাবি করে তা কাপড়ের জন্য নয় বরং কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সমাধানের জন্য দাবি করে।”

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বস্ত্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে এ জাতীয় পণ্যগুলির জন্য কোনও গাইডলাইন নেই। বিশেষজ্ঞরা এই জাতীয় বিপণন দ্রব্যগুলিকে কৌশলগত ভাবে বাজার ধরা এবং বিপজ্জনক হতে পারেও বলে দাবি করেছেন।

নেফ্রন হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডঃ সঞ্জীব বাগাই জানিয়েছেন, এ জাতীয় দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষার বিষয়ে মিথ্যা ধারণা দিতে পারে জনমানসে।

তিনি আরও বলেন, “টেকনোলজিকে বিস্তর পরীক্ষা করা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা দরকার। সংস্থাগুলির উচিত গবেষণামূলক উপাদানগুলি জনসাধারণের মধ্যে প্রকাশ করা উচিত এবং এ জাতীয় জিনিস তৈরিতে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ