ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তাপস পালের মৃত্যুর জন্য সিবিআইকে দায়ী করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর অভিযোগ, রোজভ্যালি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাপস পালকে দিনের পর দিন যেভাবে জেরা করেছিল, তারফলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অকালে চলে গেলেন৷ কল্যানের বক্তব্য, তাপসের মৃত্যুতে বিরোধীরা খুশি হয়েছে৷ একই বক্তব্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও৷

মঙ্গলবার ভোরে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পালের ৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর ৷ তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘খুব খারাপ লাগছে৷ তাপস শারীরিকভাবে খুব কষ্ট পেয়েছে৷ রোজ়ভ্যালির ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল৷ সিবিআই দিনের পর দিন জেরা করেছে, গ্রেফতার করেছে ৷ একটা মানুষকে চোর বলেছে অথচ তা প্রমাণ করতে পারেনি৷ ক্রিমিনাল কেস শুরু করে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখলে যে মানসিক যন্ত্রণা হয় , তার ফলেই ওর মৃত্যু হল৷ মানসিক যন্ত্রণা থেকে শরীরে যে কষ্ট হয়, তা অস্বীকার করা যায় না ৷ বিরোধীরা এখন খুব খুশি হবে ৷ ওরা এটাই চেয়েছিল ৷’’

রোজ়ভ্যালিকাণ্ডে ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাপস পালকে গ্রেফতার করে সিবিআই ৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল , রোজ়ভ্যালি থেকে আর্থিকভাবে তিনি লাভবান হয়েছেন৷ ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওড়িশা থেকে জামিনে মুক্ত পান তিনি ৷

ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের জঘন্য চক্রান্তের জন্যই তাপস পালকে অকালে চলে যেতে হল৷’’

বাংলার রাজনীতিতে দু’বারের বিধায়ক, দু’বারের সাংসদ তিনি। আর কোনও বাঙালি অভিনেতা এতটা সাফল্য এখনও দেখাতে পারেননি নির্বাচনী রাজনীতিতে। কিন্তু তার পর ‘ট্র্যাজেজি নায়ক’ হয়েই থাকলেন তিনি৷

একের পর এক বিতর্কে ক্রমশ ‘খলনায়ক’ হয়ে উঠছিলেন তাপস পাল। প্রচণ্ড মানসিক পীড়াতেই হোক বা শারীরিক কারণে, শেষ দিকটায় অসুস্থও ছিলেন খুবই। ভুবনেশ্বরে দীর্ঘ বন্দিদশা থেকেই সম্ভবত তাঁর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। স্নায়ুর সমস্যা বেড়েছিল বন্দি থাকাকালীন। জামিন পাওয়ার পরে ঈশ্বরের নাম নিয়ে তাপস পালের আকুল কান্নার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলায়।

জনপরিসর থেকে ক্রমশ অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। শরীর ভাঙছিল বলে খবর মিলছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিসর থেকে। শেষ ক’টা দিন কাটল ভেন্টিলেশনে। শেষমেশ ইহলোক থেকে বিদায় তাপস পালের৷