কলকাতাঃ  রবিবার কালীপুজো। সেজন্যে সোমবার ছুটি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরে ছুটি ঘোষণা করলেন তিনি। আজ সোমবার শিলিগুড়িতে বিজয়া সম্মিলনীতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই কালীপুজোর জন্যে এই ছুটির ঘোষণা করেন তিনি। রবিবার এবার কালীপুজো পড়ে যাওয়াতে একটা ছুটি মিস হয়ে যাচ্ছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেটা কখনই চান না। আর তাই পরের দিন ছুটি ঘোষণা করলেন তিনি।

অন্যদিকে ছট পুজো ৩ নভেম্বর। সেদিন রবিবার হওয়ায় ৪ নভেম্বর, সোমবার রাজ্যে ছুটি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছিলেন, ‘কালীপুজো রবিবার পড়েছে। আমাদের একটা অ্যাডিশনাল হলিডে দেওয়া আছে। ভাইফোঁটার সঙ্গেও ছুটি দেওয়া আছে। কিন্তু ছট পুজো যেহেতু রবিবার পড়েছে। তাই সোমবার রাজ্যে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। আমরা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত করে নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, পুজোর টানা ১৪দিন ছুটির পর গত কয়েকদিন আগেই সমস্ত সরকারি দফতর খুলেছে। আবার ২৭অক্টোবর থেকে টানা চারদিন ছুটি। কারণ শনি, রবি এবং কালীপুজোর ছুটি মিলিয়ে লম্বা একটা ছুটি পেয়ে গিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। সূত্র বলছে ফের ৩১অক্টোবর খুলবে সমস্ত সরকারি দফতর। নভেম্বর মাস পড়তেই পয়লা তারিখ সরকারি দফতর খোলা। আবার শনি, রবি সোম-টানা তিনদিন ছুটি। অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীরা সরকারের এই ছুটি দেওয়ার প্রবণতাকে এখন ভালো চোখে দেখছেন না। রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, সরকার তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এখন ছুটি দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শারদোৎসবের ছুটির আগে বেতন কমিশন প্রকাশ্যে এনেছে সরকার।

সেই বেতন কমিশনে উল্লেখ নেই বকেয়া মহার্ঘভাতার কথা। এমনকি কী আগামীদিনেও মহার্ঘভাতা মিলবে কী না তা নিয়েও একটি শব্দও নেই বেতন রোপা বিধিতে। এরিয়ার না দেওয়ার কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। মহার্ঘভাতা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়কে অমান্য করেছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে কী হবে তা নিয়েও দোলাচলে কর্মচারীরা। এই পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ছুটি দিয়ে কর্মচারীদের কাছে পুষিয়ে দেওয়ার ইমেজ করতে চাইছে সরকার, এমনটাই অভিযোগ বাম মনভাবাপন্ন রাজ্য সরকারি কর্মীদের।

অন্যদিকে এদিন ফের একবার শিলিগুড়িতে এনআরসি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন “আতঙ্ক নয় নিশ্চিন্তে থাকুন ৷ বাংলা শান্তি চায় ৷ বাংলায় কোনও এনআরসি হবে না ৷ কোনও ভাগাভাগি হবে না ৷ কাউকে যেতে হবে না বাংলা থেকে ৷ ভোটাধিকার থাকা মানেই নাগরিক ৷ আমরা আপনাদের পাহারাদার ৷”