স্টাফ রিপোর্টার, শিলিগুড়ি: ভালবাসার দিনে ‘আলাদা’ হয়ে গেল দার্জিলিং-কালিম্পং৷ সেই বিচ্ছেদ ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার কালিম্পংকে পৃথক জেলা হিসাবে ঘোষণা করলেন তিনি৷ ২১ তম জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল কালিম্পং৷

মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে এলে বরাবরই গোটা রাস্তায় জায়গায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন পাহাড়ি মানুষেরা। কেউ ফুল নিয়ে, কেউ খাদা নিয়ে স্বাগত জানান তাঁকে। মমতাও তাঁদের দেখে দাঁড়ান। গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে কথা বলেন। জানতে চান, কী খবর? এ দিন সেই উচ্ছ্বাসই বেরিয়ে পড়ছিল বারবার। বিশেষ করে পাহাড়ি মেয়েদের মধ্যে। কেউ নাকে নথ, খোপায় ফুল গুঁজে চলে এসেছেন দিদিকে স্বাগত জানাতে। কেউ আবার টপ-জিনসে।মেয়ে-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই রাস্তার পাশে গিটার নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন। কেউ কেউ আবার দলবল নিয়ে হাততালি দিয়ে নেপালি গান গেয়ে গিয়েছেন সমানে।
এঁদের মধ্যেই কেউ কেউ চিৎকার করে ধন্যবাদ দিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। যার জবাবে তিনি বললেন, ‘‘সবাই ভাল থাকুন। হাসি-খুশি থাকুন। আপনাদেরও ধন্যবাদ।’’ বললেন, ‘‘এমন হাসিখুশি পাহাড়ই আমি পছন্দ
করি। পাহাড় হাসিখুশিই থাকবে।’’ কালিম্পংকে ২১ তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করার পর মমতা বলেন, ‘ভ্যালেন্টাইন ডে এখন ‘কালিম্পং ডে’৷ আমরা কালিম্পঙে নতুন জল প্রকল্প করব৷ ২২০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা কালিম্পং-সিকিম সিল্ক রুটের উন্নয়ন করব৷’

এদিন নাম না করে বিমল গুরুংদের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে না পেরে কেউ কেউ অশান্তি ছড়াচ্ছে৷ সরকার কোনও অশান্তি বরদাস্ত করবে না৷ আমরা পাহাড়ে কোনও অশান্তি চাই না৷ আমরা বিশ্বাস করি একতাই বল৷ যারা পাহাড়ে হিংসা ছড়াচ্ছে, তারা পাহাড়ে শান্তি চায় না৷’