ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: জেলার ‘কালী ক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়ার সোনামুখী। ছোটো বড় মিলিয়ে এখানে কয়েক’শ কালী পুজো হয়। সূত্রের খবর, প্রায় সব কটি কালী পুজো শুরুর পিছনে রয়েছে বিশেষ কিছু ইতিহাস। এখানকার প্রাচীন কালী পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম মুনসেফ গড়ের পাড় এলাকার দক্ষিণ খণ্ড কালী।

জানা গিয়েছে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সকলে এক সঙ্গে মাতৃআরাধনায় মেতে ওঠেন। ধর্মীয় হিংসায় জর্জরিত বর্তমান সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম উদারহরণ এই প্রাচীণ শহর সোনামুখীর কালী পুজো।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সোনামুখীর এই এলাকায় ১৮৩০-৩৫ সাল নাগাদ আদালত ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সবসময় জনসমাগম থাকত এখানে। কিন্তু ১৮৭০ সালের পরে ওই আদালত বন্ধ হয়ে যায়। আদালতে কর্মরত মানুষেরাই প্রথম এই পুজো শুরু করেন বলে জানা গিয়েছে। সেকারণেই এই কালীর নাম দলিলে কালি। যদিও এখন দক্ষিণখণ্ড কালী মাতা নামেই পরিচিত। আবার অনেকেই ‘ঘুঘু কালী’ নামেই ডেকে থাকেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে এখানে নতুন কালী মন্দির নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে।

বর্তমানে পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য গৌরহরি কারক ঠিক কত সালে বা কত বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন সেইবিষয়ে কোনও নথি তাদের কাছে নেই বলে জানান। তবে ১৮৩৫-৪০ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এই পুজোর সূচনা হয় বলে তিনি মনে করেন। শুধু তাই নয় হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে পুজোর দিন গুলিতে সবাই একসঙ্গে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। তিনি আরও বলেন, ‘মহরমেও আমরা সবাই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি’। ‘এখানে পুজো এক দিনের নয়, টানা পাঁচ দিন মন্দিরে প্রতিমা রেখে পুজো হয়’। পরে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নিরঞ্জন হয় বলেই তিনি জানান।

পুজো কমিটির সদস্য সেখ মহবুব হোসেন বলেন, আমাদের এই পুজোয় কোন জাতিভেদ নেই। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথেই পুজোর আনন্দে মেতে উঠি। পুজোর আয়োজন থেকে নরনায়ণ সেবা সবেতেই সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন বলেই তিনি জানান।