স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কাঁকিনাড়ায় খুন বিজেপি কর্মী৷ রবিবার রাতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন বিজেপি কর্মী চন্দন সাউ৷ নিহতের কল লিস্ট দেখে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

প্রত্যদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ প্রথমে বোমা ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা৷ তার মাঝেই কাঁটাডাঙা এলাকায় চন্দনকে লক্ষ্য করে ছৌঁড়া হয় গুলি৷ দুষ্কৃতীরা তৃণমূল আশ্রিত বলে দাবি বারাকপুর লোকসভার বিজয়ী প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের৷ যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

আরও পড়ুন: পুরসভার জল সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন শহরবাসী

বিজেপি সূত্রে খবর, চন্দন পেশায় ব্যবসায়ী৷ বছর ২৫-এর যুবক রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল৷ তার বাড়ি ছোট শ্রীরামপুরে৷ বিজেপির হয়ে এবার অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে প্রচারও করেছিল সে৷

ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচন ও ভোট পরবর্তী সময়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কাঁকিনাড়া৷ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ তবে রবিবার রাতের এই ঘটনার পর ফের পরিস্থিতি আগ্নিগর্ভ হতে পারে বলে আশঙ্কা৷

আরও পড়ুন: বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে আপত্তি, স্ত্রীকে বছরভর চেন দিয়ে বেঁধে রাখল স্বামী

গুলিতে জখম বিজেপি কর্মী চন্দনকে এদিন নিয়ে যাওয়া হয় ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে৷ সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷ হাসপাতালের বাইরে প্রচুর বিজেপি কর্মী ভিড় জমিয়েছেন৷ দফায় দফায় সেখানে চলছে বিক্ষোভ৷ মোতায়ের রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷

বারাকপুর লোকসভায় ভোট ঘিরে এবার উত্তেজনা ছিল৷ ভোটে জয় পান বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং৷ ১৯ মে হয় ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচন৷ সেই ভোট ঘিরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ হয়৷ বাইকে আগুন থেকে বাড়ি ঘর ভাঙা হয়৷ পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ৷ তারপর ফলাফলেই স্পষ্ট হয় বিজপির পবণ সিংয়ের জয়৷ বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরাজয়ের পর এলাকায় অশান্তি, খুন করে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল৷

আরও পড়ুন: ছেলেটা ছুটতে ছুটতে এসে বলল , ‘কুন্তল কাকাকে আর দেখতে পারবো না?’

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাঁকিনাড়ার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের পার্টি অফিসের ক্ষমতার দখল ঘিরে কিছুদিন ধরে গন্ডগোল চলছিল কাউন্সিলর বিমান বসু সঙ্গে তার একদা ছায়াসঙ্গী চন্দন সাউয়ের৷ শনিবার রাতে বিমান বসুর বাড়ি এবং রবিবার সকালে বিমান ঘনিষ্ঠ দু’জনের বাড়িতে বোমাবাজি চলে বলে অভিযোগ৷ এরপর রাতে খুন হয় বিজেপি কর্মী চন্দন৷

রাজনৈতির উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে খুনের পিছনে? তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ তবে পুলিশের তরফে এখনও কিছু স্পষ্ট করা হয়নি৷