কলকাতাঃ  গোটা রাজ্যজুড়ে বিজেপি ঝড়। এক ধাক্কায় বাংলায় প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট বাড়ল বিজেপির। যার ফল হাতেনাতে পেল বঙ্গ বিজেপি। দুই থেকে বাংলায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮। এভাবে একের পর এক লোকসভা আসতেই কার্যত ঘরে লুকালেন বহু তৃণমূলের নেতা-কর্মী। কারন তথ্য বলছে, শুধু লোকসভা আসন জেতাই নয়, রাজ্যের মোট ২৯৫টি আসনের মধ্যে বহু আসনেই এই মুহূর্তে লিড করছে বিজেপি। আর যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এখনই বাংলায় ভোট হলে অবশ্যই কপালে ভাঁজ পড়বে তৃণমূলের।

বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের পর থেকেই ক্রমশ এগিয়ে যেতে থাকে বিজেপি। আর এরপর যেভাবে বেলা গড়াতে থাকে তত লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হয়। তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীই একটা সময় পিছিয়ে পড়ে। যদিও শেষবেলায় তাঁরা তৃণমূল নেত্রী মমতার মান বাঁচলেও বহু বিধানসভাতেই এগিয়ে কিন্তু বিজেপি। যেমন বারাসত লোকসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে বিজেপিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কিন্তু হাবরা বিধানসভা রাজ্যে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের খাসতালুকে কিন্তু পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। শুধু তাই নয় রাজ্যের আরও একমন্ত্রী সুজিত বসুর বিধানসভা কেন্দ্রেও পিছিয়ে পড়েন কাকলী।

তথ্য বলছে, খোদ খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয়ের বিধানসভা কেন্দ্র হাবরায় কাকলি ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। সুজিতের কেন্দ্র বিধাননগরেও সাড়ে ১৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন কাকলি। কিন্তু যেখানে দুইমন্ত্রী কার্যত কাকলিকে জেতাতে হিমশিম খেয়েছেন সেখানে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। যার সঙ্গে কিনা কাকলীর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক। তথ্য বলছে, রাজারহাট-নিউ টাউনের তৃণমূল বিধায়ক এবং বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর কেন্দ্র থেকেই সাড়ে ২৩ হাজার ভোটের লিড পেয়েছেন তিনি।

যদিও শেষবেলা পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে তৃণমূলের কাকলী ঘোষ দস্তিদার। কিন্তু শেষবেলায় মোড় ঘুরিয়ে দেয় দেগঙ্গা। সেখান থেকে বিপুল ভোটে লিড তৃণমূলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বারাসত লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছ’টিতেই এবার আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তৃণমূল।