নয়াদিল্লিঃ  লোকসভা ভোটে বাংলায় অভাবনীয় বিজেপির ফলাফল। মাত্র ২টি আসন থেকে এক লাফে বাংলায় বিজেপির আসন পৌঁছে গিয়েছে ১৮ তে। বাংলায় এভাবে গেরুয়া ঝড়ের পরেই বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক বাড়ছে। একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভাঙানোর খেলায় মেতে উঠেছেন মুকুল রায়। শুধু নেতা-কর্মীরাই নয়, শাসকদলের বিধায়কদেরও ক্রমশ দল টানছেন তৃণমূলের প্রাক্তন চাণক্য।

যেমন আজ মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে প্রত্যাশিতভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। বিষ্ণুপুরের তৃণমূলের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য ও হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন্দ্র রায়। ভোটের ফলাফলের পরেই শাসকদল তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদল থেকে যেভাবে বিধায়ক, নেতা-কর্মীরা ক্রমশ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তাতে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি শিবির। আত্মবিশ্বাসী মুকুল রায়-কৈলাশরাও।

আর তাই দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে কৈলাশ-মুকুলদের হুঁশিয়ারি, আগামীমাস জুন থেকে শাসকদলের বিধায়কদের লাইন পড়ে যাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার। শুধু তাই নয়, বাংলায় যেভাবে সাত দফায় ভোট হয়েছে তেমনই সাত দফায় বিধায়কদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো হবে বলে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় নেতার।

যোগদানের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেন, মমতার একনায়কতন্ত্র থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চাইছে। আর সেই কারণেই দলে দলে নেতা, কর্মী এবং বিধায়করা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করছে। যদিও এই প্রসঙ্গে কৈলাশ বলেন, “আমরা তো ২০২১ সালেই বিধানসভা ভোটে জিতে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চাই। কিন্তু তার আগেই যদি মমতার বিধায়করা তাঁকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসেন, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।”

প্রসঙ্গত, বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ এনেছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূল সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি ভুল করছে। এই প্রসঙ্গে বিজয়বর্গী যদিও আগেই বলেছেন, ‘তৃণমূলের নিজের দোষেই খারাপ ফল হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকার ফেলার চেষ্টা করব না। সরকার নিজের থেকেই পড়ে যাবে।’ বিজয়বর্গীর মতে, তৃণমূল নেতারা মমতার উপর আস্থা হারাচ্ছেন। তাঁরা হতাশ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা যদি আমাদের কাছে এসে মমতার অপশাসন নিয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা কী করতে পারি?’ আজ মঙ্গলবারও তৃণমূল বিধায়ক সহ বহু নেতা-কর্মীর যোগদানের পর কৈলাশের মতে, হতাশ হয়েই সবাই চলে আসছে বিজেপি।

অন্যদিকে বিধায়ক ভাঙানোর প্রসঙ্গে মুকুল রায় বলেন, বিগত দিনে দল ভাঙানোর বিষয়টি শিখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমরা দল ভাঙাছি না, স্বেচ্ছাতেই মানুষ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।