বাগডোগরা: অন্ধকার শহরে জঙ্গল রাজ চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে ঠিক এই ভাষাতেই তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বেও আছেন তিনি। সোমবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন কৈলাস। এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘আন্ধেরিনগরী জঙ্গলরাজ চলছে।’

মমতাকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের রাজ্যপাল সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী। আর উনি রাজ্যপালকে আইন শেখাচ্ছেন! তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা যখন জেলে যাচ্ছেন সেই দলের নেতারা আইন শেখাচ্ছেন?

এখনকার পুলিশ-প্রশাসনের নিঃস্পৃহতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এটা তো পুরো আন্ধেরি নগরী। সারা রাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছে। আমার মনে হয় ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ক্ষমতা বাকি রয়েছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে।’

কিছুদিন আগেই রাজ্যপালের প্রশাসনিক বৈঠক প্রসঙ্গে তোপ দেগেছিলেন তৃণমূল দলের নেতারা। রাজ্যপাল এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। কিন্তু, তৃণমূলের রাজ্যপালের এই আক্রমণকে তৃণমূল নেত্রী মমতার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার ফল হিসাবেই দেখছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘উনি কর্মসভায় গিয়ে দলীয় কর্মীদের বকাঝকা করছেন। জনতার টাকা খরচা করে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রাখছেন। সামনের বিধানসভায় এই দল কতটা টিকতে পারে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।’
সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় গাড়ি করে রওনা হন কালিয়াগঞ্জের উদ্দেশ্যে। সেখানে উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন তিনি।

চলতি মাসের ২৫ নভেম্বর রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। করিমপুর, খড়গপুর সদর, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এই ভোট রয়েছে। আগামী পুরসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কাছে এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিকমহল। অন্যদিকে গত লোকসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। এরপর ধীরে ধীরে নিজেদের হারানো জমি ফের একবার শক্ত করেছে তৃণমূল। এই অবস্থায় এই তিন বিধানসভায় পদ্মকে রুখে দিয়ে ঘাসেফুল ফোটানোটাই এখন তৃণমূলের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.