তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কদম বাউরী। বাঁকুড়ার তালডাংরার হাড়মাসড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কিয়াশোল গ্রামের এই ছাত্রীই এখন বাল্যবিবাহ রোধে জেলা প্রশাসনের রোল মডেল। গায়ে হলুদের আসর থেকে উঠে গিয়ে নিজের বিয়ে বন্ধ করে দিয়ে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কদম বাউরী৷ তাই তাকে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বীরাঙ্গনা’ সম্মানে সম্মানিত করা হল।

জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে পরিবার তালডাংরার ব্রাহ্মণডিহা হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী কদম বাউরীর বিয়ে ঠিক করেন। দিন আনি দিন খায় পরিবারের সন্তান কদম কিন্তু নিজে এখনই বিয়ে না করে আরও পড়াশোনা করতে চায়। সেই কথা অনেকবার পরিবারকে বুঝিয়েও কাজ হয়নি। হাতের কাছে ভালো পাত্র পেয়ে সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন তার বাবা মা। এই অবস্থায় বিয়ের দিন গায়ের হলুদের আসর থেকে উঠে গিয়ে গ্রামের মাঠ পেরিয়ে সোজা সে হাজির হয় তার স্কুল ব্রাহ্মণডিহা হাইস্কুলে।

পড়ুন: ‘বাংলায় বিজেপির প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে’

স্কুলের শিক্ষকদের তার আরও পড়াশোনার ইচ্ছের কথা জানালে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বন্ধ হয় কদম বাউরীর বিয়ে। সে এখন নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। এদিন সেই কদম বাউরীকে জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরাঙ্গনা সম্মান দেওয়া হল। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, জেলা পরিষদের সহ সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল, বিধায়ক শম্পা দরিপা, বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত প্রমুখ।

অনুষ্ঠান মঞ্চে কদম বাউরী জানায়, আবারও পড়তে পেরে তার ভালো লাগছে৷ সেদিন স্কুল কর্তৃপক্ষ আর প্রশাসন তার পাশে না দাঁড়ালে পড়াশোনা করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতো।

পড়ুন: ‘এটা জগন্নাথের রথযাত্রা নয়, বিজেপির ফূর্তি করার রথযাত্রা’

জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, ‘‘কদমের জন্য আমরা গর্বিত। ও এখন জেলায় রোল মডেল। ওকে দেখেই অনেক মেয়েই অনুপ্রাণিত হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যস্তরে কদম পুরস্কৃত হয়েছে। আজ জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকেও সম্মানিত করা হল। আমরা প্রশাসনিকভাবে বাল্যবিবাহ রোধে ধারাবাহিক প্রচার চালাচ্ছি। এরকমভাবে অন্যান্য মেয়েরাও এগিয়ে এলে এই কাজটা অনেক সহজ হবে বলেই তিনি মনে করেন।’’