আলিগড়: ‘লাখপতি’কচুরিওয়ালার বাড়িতে গিয়ে হতাশই হলেন আলিগড়ের জিএসটি অফিসাররা৷ পাক্কা খবর ছিল, কচুরিওয়ালা মুকেশ কুমার নাকি ৭০ লক্ষ টাকার মালিক৷ কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে, তিনি ২২৫ বর্গফুটের একটি ভাঙাচোড়া ফ্ল্যাটে থাকেন৷ সঙ্গী তাঁর পরিবার৷

কিছুদিন আগেই আলিগড়ের এই কচুরিওয়ালা সংবাদ শিরোণামে এসেছিলেন৷ কারণ তিনি নাকি লাখপতি৷ তাঁর বার্ষিক আয় ৭০ লক্ষ টাকা৷ বড় বাড়ি-গাড়ি রয়েছে৷ খবর শুনে নড়েচড়ে বসেছিলেন জিএসটি অফিসাররা৷ কিন্তু মুকেশের বাড়ি গিয়ে হতাশায় মাথা নেড়েছেন তাঁরা৷ ভাঙাচোড়া ফ্ল্যাটে জিনিসপত্র ছড়ানো৷ অতিথিদের বসবার জন্য কিছু প্ল্যাস্টিকের চেয়ার পাতা৷ বাড়ির বাইরে বাহন অবশ্য রয়েছে, একটি পুরানো কালো বাই-সাইকেল এবং মোপেড৷

আলিগড় শহরে মুকেশের বাড়ি গলুর রোডে৷ বাড়ি থেকে দোকানের দূরত্ব ১ কিলোমিটার৷ ওই দোকানেও হানা দিয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন জিএসটি অফিসাররা৷ ঠিক সপ্তাহ পর মুকেশের বাড়ির সামনের সরু গলি দিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হন জিএসটি অফিসাররা৷

মুকেশের ‘চার ফুট বাই চার ফুট’ কচুরির দোকান তাঁর নিজের নয়৷ তাঁর বাবা মাখনলাল ভাড়া নিয়েছিলেন৷ মাখনলালের বক্তব্য, জিএসটি দেওয়ার মতো বড় কচুরির ব্যবসা তাঁরা করেন না৷ তবে ব্যবসা ভালোই চলছে৷ তিন ছেলে সহ পরিবারের সকলে মিলে মাসে গড়ে দেড় লক্ষ টাকা রোজগার করেন ৷ মুকেশ ও তার দুই ভাইয়ের ছোট ছোট বাসস্থান রয়েছে৷ পরিবারে ৭টি শিশু সহ ১৫ জন সুখেই রয়েছেন৷ তিন ছেলেই ব্যবসায় সাধ্যমত সাহায্য করছেন৷

তবে মাখনলাল এবার জিএসটি-তে নিজের ব্যবসা নথীভুক্ত করেছেন৷ বলছেন, কে আর এত ঝামেলা নেবে৷ তবে কচুরি বেচে এত লাভ হয় না যে জিএসটি দেওয়া যাবে৷ অন্যদিকে মাখন লালেন ছেলেরা বলছেন, এক প্লেট কচুরি ২৪ টাকা এবং সঙ্গে এক কাপ রায়তা ৫ টাকা – এই ‘কম্বিনেশন’ সারা দেশ জেনে গিয়েছে৷