প্রতীকী ছবি

কলকাতা: “ঝড় থেমে যাবে একদিন/ পারলে সেদিন খুঁজে নিও/ ঝরাপাতাগুলো খুঁজে নিয়ো…/ ঝড় চলে যাবে/ পাতা রবে সমাধিতে/ পারলে মনে রেখো/ একটা গান দিয়ো/ একটা কলি গেয়ো/ দুফোঁটা চোখের জল দিয়ো” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই কথাগুলোকেই সুরে বাঁধলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন। এই গান প্রসঙ্গে সুমন জানিয়েছেন, বাঁশিশিল্পী পান্নালাল ঘোষের তৈরি করা রাগ নূপুরধ্বনির গঠনের সঙ্গে শুদ্ধ ধৈবত জুড়ে নতুন একটি রাগের জন্ম দিয়েছেন তিনি। প্রথমে সেই রাগের নাম দিয়েছিলেন ‘নববাংলা’।

লকডাউনে গৃহবন্দি সুমন এবার সেই রাগের নাম পালটে নতুন নাম দিলেন ‘মমতা’। এই গান লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লকডাউনে ঘরবন্দি বহু শিল্পী ইতিমধ্যেই নানা সংবেদনশীল কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেইসব কর্মকান্ড অনেকেরই চোখে পড়ছে। সেই জায়গায় কবীর সুমনের গাওয়া এই গানটি নতুন সংযোজন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অন্যান্য অনেক দেশের মতোই করোনা থাবা বসিয়েছে ভারতে। বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। চিন্তিত গোটা দেশ। ক্রমেই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে মারণ করোনা। এ রাজ্যে করোনার সংক্রমণ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মতৎপরতা ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে করোনা নিয়ে দুটি কবিতা লিখেছেন মমতা। এবার তাঁর লেখাকে গানে বাঁধলেন সুমন। গানের প্রথম লাইন ‘ঝড় থেমে যাবে একদিন’।

এই লাইনের মধ্যে দিয়ে দুর্যোগ সামলে ওঠার এক আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকের মতে, করোনা ভাইরাসের কঠিন সংক্রমণ থেকে একদিন সবাই মুক্তি পাবে– এই সাধারণ কথাকেই শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন মমতা। আর তাতে চমৎকার সুর বসিয়েছেন কবীর সুমন। সুমনের গাওয়া এই গান নিজের ফেসবুক দেওয়ালে শেয়ার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গানটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

তবে কবীর সুমনের ধারনা এই গান শুনে অনেকে তাঁকে গালিগালাজ করন। এই গানের শুরুতে তিনি নিজেকে ‘সঙ্গীতের গোলাম’ বলে দাবি করেছেন। সুমনের কথায়, “আমাকে দালাল-টালাল যেটা বরাবর সকলে বলে থাকেন, সেটাই বলুন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার গর্ব যে, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছি। আমার গর্ব যে, এই সময়ের লড়াইতে আমিও আছি, আরও বহু মানুষের সঙ্গে। আমার গর্ব যে, আমি দেখলাম, আমারই দেশের একজন নেতা কী ভাবে, এ পৃথিবীর এক নেতা কী ভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, মানুষকে জাগিয়ে তোলেন, মানুষের পাশে থাকেন, সময়ের পাশে থাকেন।”