চেন্নাই: তৃতীয় জোটের জল্পনা বাড়িয়ে আজ চেন্নাইয়ে ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও৷ আর তাতেই ভারতীয় রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে৷

রাও প্রথম থেকেই কেন্দ্রে অ-কংগ্রেসী অ-বিজেপি সরকার গঠনের সমর্থক৷ তবে ভিন্ন মত পোষণ করেন দ্রাবিড় রাজনীতির অন্যতম দল ডিএমকে সভাপতি স্ট্যালিন৷ বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরে বিতর্ক বাড়িয়ে এর আগে তিনি বেশ কয়েকবার রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চেয়েছিলেন৷ লোকসভা ভোটেও হাত শিবিরের সহ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল ডিএমকে৷ তাই লোকসভা ভোটের শেষ পর্যায়ে এসে চন্দ্রশেখর রাও ও স্ট্যালিলেন সাক্ষাৎ রাজনীতিতে নানা জল্পনার জন্ম দিচ্ছে৷

মোদী বিরোধীতায় সক্রিয় তৃণমূল, ডিএমকে, সিপিএমের মত দলগুলি৷ এর মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আগেই কথা বলেছেন কেসিআর৷ দিন কয়েক আগেই কেরালায় গিয়ে তিনি কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজায়ণের সঙ্গেও৷ মাঝে সাক্ষাৎ করেন ওডিশ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীণ পট্টনায়কের সঙ্গে৷ কেন্দ্রে মোদী বিরোধী সরকার গঠনে মমতা কংগ্রেসের হাত ধরতে গড়রাজি হলেও বাকিরা তৃতীয় জোটের পক্ষে৷ চন্দ্রশেখর রাও-ও প্রস্তাবিত তৃতীয় জোটের অন্যতম প্রবক্তা৷

আরও পড়ুন: বুদ্ধবাবু, জ্যোতিবাবু বিজেপি সমর্থক নন, দাবি মমতার

এহেন অবস্থায় কেন হঠাৎ স্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন কেসিআর প্রধান? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ছয় দফা ভোটের পর বিজেপি-ই যে ক্ষমতায় এককবাবে ফিরবে না তা প্রায় স্প্ষ্ট৷ এনডিএর আসনও কমতে পারে৷ ভালো ফলের আশায় বিজেপি বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি৷ এই অবস্থায় কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির ভালো ফল করলেও নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে আঞ্চলিক দলগুলিই৷ তাই ফলাফলের বের হওয়ার আগেই ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির কথা মাতায় রেখে কংগ্রেসের জোট শরিক ডিএমকে প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করে রাখতে চাইছেন রাও৷

আরও পড়ুন: পাঁচ বছরে মোদী ও তাঁর মন্ত্রিদের দেশ-বিদেশের সফরে খরচ ৩৯৩ কোটি

এদিকে, তৃতীয় জোটের সম্ভাবনা আরও পোক্ত হচ্ছে মমতা ও মায়াবতীয় পদক্ষেপে৷ ভোট গণনার আগে কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে যাবেন না বলে জানিয়েছেন তারা৷ এই অবস্থায় তাদের পাখির চোখও তৃতীয় শক্তির বিকাশ৷ তবে দেখে জল মাপতেই তারা ধীরে চলছেন বলে মনে করা হচ্ছে৷

উঠে আসছে ভিন্ন মতও৷ বিজেপি বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে কংগ্রেসকে ছাড়া তা প্রায় অসম্ভব৷ বুঝছেন রাও৷ কিন্তু প্রকাশ্যেই টিআরএস অ-কংগ্রেসী ও অ-বিজেপি সরকারের পক্ষে৷ এই অবস্থায় মনে করা হচ্ছে ড্যামেজ কন্ট্রোলেই ডিএমকে প্রধান স্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন কেসিআর৷

ভোট শেষের আগেই তাই স্যালিন-রাওয সাক্ষাৎ ঘিরের নানা মহলের নানা কথা৷ নজর রাখছে সাসক বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দলগুলিও৷