নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: চলছিল গোপন বৈঠক’ আর সেই বৈঠকেই বিজেপি-সিপিএম নেতা টাকার লেনদেন করছিল বলে অভিযোগ৷ আর এই নিয়েই প্রচারের শেষ প্রহরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দমদমে নাগেরবাজারের পরিস্থিতি৷ এমনই পর্যায়ে পৌঁছল যে পুলিশ থেকে কেন্দ্রীয়বাহিনীকে ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়৷

শুরু থেকেই বারবার অভিযোগ উঠছিল, বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এক সিপিএম নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন, যেখানে টাকার লেনদেনেই চলছিল গোপন আঁতাত৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গেস্ট হাউসের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়৷ জানা যায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্যও৷ যদিও এই নেতাদের উপস্থিতি এবং বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন মহলে৷ যেমন প্রশ্ন ওঠে মুকুল রায়ের সঙ্গে কোন সিপিএম নেতা ছিলেন?

এক বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তৃণমূলের তরফে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘মুকুল রায় সিপিএমের প্রাক্তন নেতা পল্টু দাশগুপ্ত এবং শমীক ভট্টাচার্য বৈঠক করছিলেন৷ টাকার লেনদেন করছিলেন৷ সিমপ্যাথি ড্র করার খেলায় নেমেছে বিজেপি৷ তাই টাকার ডিল হচ্ছিল৷’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেদের বলেছি, পুলিশকে জানাও, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি দেখবে৷ ওই বিক্ষোভে তৃণমূলের কর্মীরা নেই৷ বিজেপির কর্মীদের ডেকেই নিজেদেরই গাড়ি ভাঙচুর করিয়েছে৷ বিদ্যাসাগর কাণ্ডের পর এই সিমপ্যাথি ড্র করার খেলা চলছে৷ মুকুল রায় গল্প তৈরি করার মাস্টার৷ তিনি গল্প তৈরি করছেন৷’
এদিকে, সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সত্যাসত্য জানি না৷ জ্যোতিপ্রিয় বাবু কী করে জানলেন টাকার লেনদেন হয়েছে৷ তাঁর লোক ছিল সেখানে? পল্টু দাশগুপ্ত আগে সিপিআইএমের নেতা ছিলেন, কিন্তু এখন এই নামে পার্টিতে কোনও নেতা নেই৷’

আবার গেস্ট হাউসের মালিকের দাবি, ‘কেউ কারও বাড়িতে যেতেই পারেন, কিন্তু প্রচার করতে পারবেন না৷ জন্মদিনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল৷ কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা হয়নি৷ তবে এত বড় কাণ্ড ঘটে যাবে তা কল্পনা করিনি৷ প্রত্যেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক৷ মুকুল রায় ১০টা বাজতে ১০-এ এসেছেন৷ পল্টু দাশগুপ্ত তার আগে এসেছিলেন, তবে এই বিল্ডিং নয়, ওই বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন৷ তারা আসতেই পারেন৷ বাড়িতে অতিথি হিসাবে কেউ আসতেই পারেন৷ ভোটের আগেই যদি দমদমে এমন অবস্থা হয়, তাহলে ভোটের দিন কী হবে৷’