স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দীর্ঘ এক দশক পর নিজের বাড়িতে ফিরেছেন শাসনের একদা ত্রাস মজিদ মাস্টার। তাও আবার তৃণমূলের সহযোগিতায়৷ সিপিএমের একসময়ের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতার এমন হালকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ তিনি বললেন, “সিপিএম করা মানেই শেষ জীবনে বিষ খেয়ে মৃত্যু। মজিদ মাস্টারেরও তাই হবে।”

প্রায় ১১ বছর পর বুধবার দুপুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন মজিদ মাস্টার৷ কিন্তু সেদিন রাতেই তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হবে বলে স্থানীয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ‘নির্দেশ’ এসেছিল বলে অভিযোগ।বৃহস্পতিবার সকালে মজিদের ছেলে মণিরুল ইসলাম রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। সূত্রের খবর, মজিদকে শাসনের বাড়িতে থাকার কথা বলেছেন জ্যোতিপ্রিয়। নিরাপত্তার আশ্বাসের পাশাপাশি অসুস্থ মজিদকে চিকিৎসার করানোর পরামর্শও দিয়েছেন। জ্যোতিপ্রিয়র কথায় ভরসা রেখে এদিন শাসনের বাড়িতেই ছিল মজিদের পরিবার। জ্যোতিপ্রিয়র এই সহযোগিতার জন্য মণিরুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে হাবড়া অ্যাথলেটিক ক্লাবের মাঠে চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মজিদের ঘরে ফেরা প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “মজিদ মাস্টারের আমলে লুঠ, রাহাজানি থেকে শুরু করে খুন সবই হয়েছিল। তার দল তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কাজ ফুরিয়েছে বলে। তবে আমাদের কোনও নেতা ও কর্মী তাকে বাড়ি ছাড়া করবে না।” জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আদালতে গিয়ে মজিদ মাস্টারকে জানাতে হবে যে সে কোনও মামলার সঙ্গে জড়িত নয়। তবেই সে সকলের কাছে মাস্টার হবে। তা নইলে সারাজীবন ‘খুনি’ শব্দ বহন করতে হবে । চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত রক্ত লেগে রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জেলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় তৃণমূলের দাপটে ঘরছাড়া হয়েছিলেন সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য মজিদ মাস্টার । তারপর তাঁর ঠিকানা হয়েছিল বারাসতের কাজিপাড়া এলাকায়। বছর চারেক আগে একবার বাড়ি এলেও তৃণমূলের বিক্ষোভের জেরে পুলিশ তাঁকে সেদিনই বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। পরবর্তীকালে সিপিএম থেকে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও হয় মজিদের। তিন বছর ধরে মজিদ সিপিএমের সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করেননি। পাশাপাশি, প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সবুজ সাথী’, ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন।