স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: পাখির চোখ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে দলীয় কর্মীদের জন্য, বিশেষত দলের নেতা মন্ত্রীদের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচি বেঁধে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দলনেত্রীর কড়া নির্দেশ ছিল জনসংযোগ বাড়াতে হবে৷

মমতা বলে দিয়েছিলেন আগামী ১০০ দিনে তৃণমূল নেতারা রাজ্যের ১০,০০০টি গ্রামে যাবেন৷ সেখানে গিয়ে সবকিছু ঘুরে দেখতে হবে। কোথায় কি কাজ হয়েছে বা হয়নি সেগুলো জানতে হবে। শুধু ঘুরে দেখে আসা নয়, রাতও কাটাবেন ওই গ্রামে। গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে হবে নেতাদের। বুথকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার কথাও বলেছেন নেত্রী।

তবে কে কোথায় যাবে, কবে যাবে, সেই বিষয়ে দলই নির্দেশ দেবে। অর্থাৎ কেউ নিজের ইচ্ছামত জায়গায় যেতে পারবেন না। দল ঠিক করে দেবে তারা কোথায়, কখন যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেন দলীয় নেতারা৷ শনিবার সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেখালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷

আরও পড়ুন : হাঁড়িয়ার টানে ঘোর লাগছে, গ্রামে ঢুকে দাপাচ্ছে দামাল হাতি

এদিন হাবড়ার কুমড়া গ্রামে গিয়ে দলীয় কর্মীর বাড়িতে কলাপাতায় ভাত খেয়ে তাদের বাড়িতে থেকে রাত পাহারার কাজে নামলেন হাবড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়৷

শুরুটা হয়েছিল শনিবার বিকেল থেকেই নানা জন সংযোগ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে৷ হাবড়া ১ নম্বর ব্লকের কুমড়ো কাশীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন তিনি৷ শুনলেন তাদের অভাব অভিযোগের কথা৷

শুধু তাই নয়, গ্রামে অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারগুলিকে খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে সরাসরি গিয়ে খোঁজ খবর নেন মন্ত্রী। ওইসব অসুস্থদের পরিবারের লোকেরা মন্ত্রীর দৌলতে পেয়ে যান সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগ ও চিকিৎসার জন্য নানারকমের সাহায্য। এরপর আস্তে আস্তে রাত নামতে থাকে। ভিআইপি মন্ত্রী গ্রামে আসাতে এলাকার মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ভিড় জমান৷

আরও পড়ুন : দিদিকে বল অনুষ্ঠানে বিধায়ককে ঘিরে ক্ষোভ, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে

এরপর দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে কলাপাতায় ভাত, ডাল, ডিম সিদ্ধ, আলুর চোখা চেটেপুটে খেয়ে তাদের বাড়িতেই রাত কাটানোর পাশাপাশি গ্রাম পাহারার কাজে নামেন রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সদস্য। ব্যস্ত এই মানুষকে একদম কাছে পেয়ে তাকে খাওয়াতে পেরে খুশি বাড়ির মালিক।