সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: এখন এক মুহুর্ত মোবাইল ছাড়া থাকার কথা ভাবা যায় না । কারণ জীবনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছে মোবাইল ফোন। তবে অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি – ভারতে প্রথম মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন জ্যোতি বসু আর অন্যপ্রান্তে ছিলেন সুখরাম। সেটা আজ থেকে প্রায় সিকি শতাব্দী আগের ঘটনা।

কলকাতা থেকে এদেশে মোবাইলের পথ চলা শুরু। দিনটা ছিল ১৯৯৫ সালের ৩১ জুলাই। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং থেকে নয়াদিল্লীর সঞ্চার ভবনের মধ্যে কথা হয়েছিল। এ প্রান্তে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং অন্য প্রান্তে তৎকালীন কেন্দ্রীয়‌ যোগাযোগমন্ত্রী সুখরাম। তখন কেন্দ্রে চলছে নরসীমা রাওয়ের জমানা।

সেদিন মোদী টেলস্ট্রার মোবাইল নেট সার্ভিসের মাধ্যমে কিছুক্ষণের জন্য সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছিল জ্যোতি বসু এবং সুখরামের মধ্যে ।মোদী টেলস্ট্রা হল মোদী গ্রুপ এবং অস্ট্রেলিয়ান টেলিকম সংস্থা টেলস্ট্রার যৌথ উদ্যোগ।

তবে এই ঘটনার বছরখানেক আগে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কলকাতাকে মোবাইল নেটওয়ার্ক সিটি‌ হিসেবে তৈরি করার। প্রথম যখন মোবাইল আসে , তখন তা রীতিমত ব্যয়বহুল ছিল।

মোবাইল হ্যান্ডসেটাই শুধু দামি ছিল না , পাশাপাশি তখন পরিষেবার খরচও খুবই বেশি ছিল। ফলে প্রথম প্রথম নিম্নবিত্ত তো দূরের কথা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ছিল মোবাইল। সেই সময় মূলত উচ্চবিত্তেরাই ব্যবহার করতেন এটা। যেমন ২০০০ সালেও ইনকামিং কল ৮ টাকা এবং আউটগোয়িং কলের খরচ ছিল ১৬ টাকা।

তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এদেশে মোবাইলে বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। মোবাইল পরিষেবা এখন অনেক সস্তা। মধ্যবিত্ত ছাড়িয়ে নিম্নবিত্ত মানুষের হাতে পৌঁছে গিয়েছে মোবাইল। অনেকের হাতে আবার এখন একাধিক মোবাইল।‌ দেখা গিয়েছে বাড়িতে শৌচাগার না থাকলেও হাতে মোবাইল রয়েছে।পাশাপাশি এখন মোবাইলের পরিধি শুধুমাত্র কথা বলায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন অনেক কাজই সেরে নেওয়া যাচ্ছে পকেটে থাকা মোবাইল থেকে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ