স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নয়া বেতন কাঠামো অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সংগঠন (জুটা)৷ মঙ্গলবার সল্টলেকের ইউজিসি দফতরে টানা দুই ঘণ্টা বিক্ষোভে অংশ নেন এই সংগঠনের সদস্যরা৷

গত বছর দুই নভেম্বর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে ইউজিসি৷ কিন্তু, এখনও পর্যন্ত ওই বেতন কাঠামো চালু হয়নি৷ জুটার প্রধান দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যে ইউজিসির নতুন বেতন কাঠামো চালু করতে হবে রাজ্য সরকারকে৷ কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার প্রথম পাঁচ বছর ১০০ শতাংশ সাহায্যের দাবিও করেছে এই সংগঠন৷

এর আগে বেতন কাঠামো বদল করা হয়েছিল ২০০৮-এর ৩১ ডিসেম্বর৷ তখন মাত্র দু’ মাসের মধ্যে অর্থাৎ, ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেছিল বলে জুটার তরফে জানানো হয়েছে৷ কিন্তু, এ বার প্রায় ছ’ মাস হতে চললেও এখনও বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়নি৷ যদিও, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জুটা৷

জুটার অভিযোগ, বর্তমানে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত হারে ডিএ পাচ্ছেন না৷ এ বার ইনট্রিম রিলিফও দিতে অস্বীকার করেছে রাজ্য সরকার৷ কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা ইজিসির বেতন কাঠামোতে রয়েছেন, তাই এই সুবিধাগুলি তাঁদের দেওয়া হবে না৷ এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার যদি আগামী এক মাসের মধ্যে ইউজিসির নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করে, তা হলে জুটা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছেন এই সংগঠনের সহকারি সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়৷

জুটার এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (আবুটা)-ও৷ এ দিনের বিক্ষোভে নতুন বেতন কাঠামোকার্যকর করার পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ১০০ শতাংশ সাহায্যও দাবি করেছেন তারা৷ এই বিষয়ে আবুটার যাদবপুর শাখার সভাপতি তরুণকান্তি নস্কর জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হয়, তার ৮০ শতাংশ ৫১ মাসের জন্য দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷ এ বার সেই বাড়তি টাকার পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বিক্ষোভে৷

কিন্তু, কেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১০০ শতাংশের দাবি করা হচ্ছে? তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘এ বার সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ এ বার তারা প্রয়োজনীয় বাড়তি টাকার ৫০ শতাংশ ৩৬ মাসের জন্য দেবে বলে জানিয়েছে৷ ফলে বেতন কাঠামো কার্যকর করার সম্ভাবনা আরও কমে গিয়েছে৷ তাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ১০০ শতাংশ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার না দিলে রাজ্য সরকার তাদের টাকা নেই বলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করবে না৷’’