স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আদালত অবমাননার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনানকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ধরানো হল৷শুক্রবার নিউটাউনে কারনানের বাড়িতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের নগরপাল ও বিধাননগরের কমিশনার তাঁর হাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা তুলে দিয়েছেন৷

১০ মার্চ বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট৷কিন্তু সি এস কারনান আত্মসমর্পণ না করায় সরাসরি তাঁকে পরোয়ানা ধরানোর নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত৷ এই নির্দেশ পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে৷

নজিরবিহীন ভাবে আদালত অবমাননার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি কারনানকে তলব করে৷ এমনকি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিচার এবং প্রশাসনিক কাজ থেকেও। সেই তলব করা নিয়ে শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি লিখে তোপ দাগেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনান। দলিত বলেই তাঁকে উচ্চবর্ণের বিচারপতিরা নিশানা করছেন বলে ওই চিঠিতে অভিযোগ করেছেন বিচারপতি সি এস কারনান।চিঠিতে বিচারপতি কারনানের আর্জি, বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবসরের পর যেন তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া আদালত অবমাননার বিচার করা হয়। প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংসদে পাঠানো হোক।

হাইকোর্ট সূত্রের খবর, উচ্চবর্ণের বিচারপতিরা আইন নিজেদের হাতে নিয়ে তাঁর মতো দলিত সম্প্রদায়ের বিচারপতিকে সরাতে চাইছেন বলে চিঠিতে দাবি করেছেন বিচারপতি কারনান। তাঁর আরও অভিযোগ, আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটা তফসিলি আইনের পরিপন্থী। চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর বক্তব্য না শুনেই কেন আদালতে হাজির হতে বলা হল? তাঁকে যে ভাবে বিচার ও প্রশাসনিক কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই বিচারপতি। চিঠিতে তাঁর দাবি, এক জন কর্তব্যরত বিচারপতিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই।

কখনও মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে, কখনও বিচারপতি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, কখনও বা সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাঁর বদলির নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কারনান। কলকাতা হাইকোর্টে বদলি হয়ে আসার পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আচমকা সিদ্ধান্ত বদল করায় প্রবীণ এক বিচারপতির সঙ্গে এজলাসেই তাঁর মতানৈক্য হয়। তা নিয়ে বিতর্কও দানা বাঁধে। পরবর্তী কালে বিচারবিভাগের দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দফতরে চিঠি লিখেছিলেন এই বিচারপতি। সেই সব অভিযোগ নিয়েই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে তাঁকে তলব করেছিল শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু আত্মসমপর্ণ না করায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা৷