স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব ফেরাল জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নয়৷ বদলে মুখ্যমন্ত্রীকেই আসতে হবে নবান্নে৷ সেখানেই হবে আলোচনা৷ জানিয়েদিল আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা৷

নিরাপত্তার আভাব ভোধ করছেন চিকিৎসকরা৷ কর্মবিরতিতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ বেহাল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা৷ গত পাঁচ দিন ধরে চরম হয়রানির স্বীকার সাধারণ মানুষ৷

আরও পড়ুন: নতুন করে বিক্ষোভ, ‘শান্ত্বনু সেন বহিরাগত’ রব উঠল NRS-এ

বৃহস্পতিবার এসএসকেএম-এ গিয়ে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কর্মবিরতি উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বেলা দু’টোর মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ‘এসমা’ জারিরও হুমকি দেন তিনি৷ কিন্তু, তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি৷ আন্দোলনে অনড় থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথার বিরোধীতা করে সোচ্চার হয় চিকিৎসক মহল৷ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র চিকিৎসকরাও গণ ইস্তফা দেন৷

সমস্যা আরও জটিল হয়৷ দেশজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবায় এনআরএসের আঁচ পড়ে৷ রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা চিকিৎসকদের দাবিকে সমর্থন করেন৷ তবে রোগীদের কথা ভেবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আবেদন জানান৷ গোটা পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয় রাজ্য প্রশাসনকে৷

পরিস্থিতি ভয়াবহ৷ এই অবস্থায় সমাধানসূত্র খুঁজতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁচ সিনিয়র ডাক্তারকে নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী৷ কতা বলেন তাঁদের সঙ্গে৷ রাজ্যের শিক্ষা স্বাস্থ অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র এনআরএসে গিয়ে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের প্রস্তাব দেন৷

সেই বৈঠকের প্রেক্ষিতেই শনিবার সকালে জিবি বৈঠক করেন এনআরএসের চিকিৎসকরা৷ পরে তারা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নবান্নে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা যাবেন না৷ এক বিবৃতিতে তারা জানয়, ঘটনার পর থেকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও মুখ্যমন্ত্রীর কথা সমর্থনযোগ্য নয়৷ এনআরএসে আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷ তবেই আলোচনা সম্ভব৷

এদিকে আন্দোলনকারীদের এই বৈঠক চলাকালীনই শনিবার এনআরএসে যান আইএনএ-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ডঃ শান্তনু সেন৷ কথা বলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে৷ বৈঠক থেকে বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই আন্দোলনে ‘বহিরাগত যোগে’র অভিযোগ করেন৷

আরও পড়ুন: আহত ডাক্তার পরিবহকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন মমতা

পরিস্থিতি ঘোরাল হওয়ার পিছনে উস্কানি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘লক্ষ্য করেছি, বাইরে থেকে কিছু লোক ঝামেলা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন৷ জোর করে অস্থিরতার পরিবেশ টিকিয়ে রাখতেই জুনিয়র ডাক্তারদের ব্রেনওয়াশ করা হচ্ছে৷ যা অন্যায়৷ দয়া করে এটা করবেন না’’

আইএনএ সভাপতি ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদের কথায় প্রতিবাদে মুখর হয় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ আবারও স্লোগান শুরু করেন তারা৷ প্রশ্ন করে বলেন, ‘‘এরপর আলোচনার আলোচনার কী অর্থ? নিরাপত্তা সুনিশ্চিৎ না হলে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব৷’’