বিশেষ প্রতিবেদন: কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘বৃষ্টিতে ডুয়ার্স খুবই পর্যটনময়’। লাইনটি পড়ে ডুয়ার্সের প্রেমে পাগল হয়ে উঠে বসলেন ট্রেনে! কিন্তু যাওয়ার আগে অব্যশ্যই জেনে নিতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য। ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকতে বন দফতরের নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ বর্ষাকাল প্রাণীদের প্রজননের সময়। ডুয়ার্সের নাম শুনলেই প্রথমে চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়-জঙ্গল। কিন্তু বার্ষায় ডুয়ার্সে বেড়াতে গেলে ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারবেন না একেবারেই।

কিন্তু বন জঙ্গলের বাইরেও রয়েছে আলাদা একটা ডুয়ার্স। যা একেবারেই অন্যরকম! বারোবিশা থেকে সোজা উত্তরে কুমারগ্রাম ছাড়িয়ে ছবির মতো সুন্দর চা-বাগান নিউল্যান্ডস। তার পাশেই সংকোশ নদী। ভরা বর্ষায় তার রূপ দেখলে চোখ জুড়োবে। কাছেই রয়েছে রসিকবিল। ভ্রমণরসিকের কাছে এ ক্ষেত্র মোটেই অচেনা নয়। তবে অচেনা লাগতে পারে বর্ষায় এর রূপ। বৃষ্টির সময় বাঁশঝাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নিজস্ব এক ভাষাকে অনুভব করা যায়।

হাতি, গণ্ডার, হরিণ, লেপার্ড, বাইসন ইত্যাদি বন্যজন্তু দেখার জন্য বহু পর্যটক ফি বছর ডুয়ার্সে ছুটে যান। কিন্তু তাঁরা জানেন না, যে এতে বন্যপাণে ব্যাঘাত ঘটে। বার্ষার সময় এড়িয়ে অন্য যে কোনও সময় ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বার্ষার তিনটে মাস ডুয়ার্সে গেলে একেবারেই চেনা ছকের বাইরে আপনাকে ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে হবে।

রাজাভাতখাওয়া থেকে কালচিনির রাস্তায় জিপ নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। ডিমা নদীর ওপরের দীর্ঘ সেতুর পিঠে কিছু সময় কাটিয়ে নিন। ভরন্ত বর্ষায় এ নদীর চেহারা পালটে যায়। রাশি রাশি ফেনাময় জলরাশি তীব্র আক্রোশে ছুটে চলেছে অজানায়। অন্য প্রান্তে আটিয়াবাড়ি চা-বাগান। চা-গাছে জমে থাকে বিন্দু বিন্দু জলধারা। আরও একটু এগিয়ে গেলে আদিগন্ত চা-বাগান– আটিয়াবাড়ি, ভাতখাওয়া, কালচিনি, ডিমা, গাঙ্গুটিয়া।

বর্ষার রায়মাটাং পর্যটকের মনে নেশা জাগাতে বাধ্য করে। বর্ষার জলে ভরন্ত যৌবনা রায়মাটাং নদী। তার রূপ মুগ্ধ করবে সকলকে। এছাড়া জলদাপাড়া অরণ্যের বুক চিরে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া যায় প্রকৃতির গভীরে। মাদারিহাটের একটু আগে ডান দিকের রাস্তাটি চলে গিয়েছে টোটোপাড়ায়। পথে পড়বে হলা-পাড়া। মাঝের নদীটি বর্ষায় পার হওয়া অসম্ভব। মাদারিহাটের পাশেই সুপরিচিত হলং বনবাংলো। যা ছিল রাজ্যের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ভীষণ প্রিয় জায়গা৷ বৃষ্টিতে ডুয়ার্স বেড়াতে হলে এইভাবে ভাবতে পারেন।