লন্ডন: গ্রেফতার হয়েছেন উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ।বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের পুলিশ লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে আটক করে। উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে সুইডেনে একটি যৌন হেনস্তার মামলা হয়। তিনি গ্রেফতার এড়াতে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসঞ্জকে গ্রেফতারের পর তাকে আপাতত লন্ডনের এক থানায় আটকে রাখা হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব’ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে ৷
২০০৬ সালে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জুলিয়ান আসঞ্জ চালু করেছিলেন উইকিলিকস নামের ওয়েবসাইট।

পড়ুন: তমলুকে সিপিএম শিবিরে ধস, তৃণমূলে যোগ শতাধিক কর্মী-সমর্থকের

ওই সাইটে তিনি একের পর এক গোপন মার্কিন দলিলপত্র প্রকাশ করতে থাকেন। যারজন্য বিব্রত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার উপর রীতিমতোই ক্রুদ্ধ হয়েছিল। বিশেষত ২০১০ সালে উইকিলিকস যখন একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত করায় জনপ্রিয়তা তুঙ্গে যায় কারণ তাতে দেখান হয় মার্কিন সৈন্যরা ইরাকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ১৮ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে।

এর ঠিক পরের বছর যৌন হয়রানির অভিযোগে সুইডেন সরকার তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তাকে লন্ডনে আটক করা হয়েছিল। তবে পরে ওই যৌন হয়রানির মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পড়ুন: তৃণমূল চোর হলে বিজেপি ডাকাত: অমিয় পাত্রের

ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্ট ২০১২ সালে মি. আসঞ্জকে সুইডেনের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি একুয়েডরের দূতাবাসে ঢুকে রাজনৈতিক আশ্রয় চান এবং তিনি সেটা পেয়েও যান। তারপর থেকে এই সাত বছর ধরে তিনি দূতাবাসের মধ্যেই বসবাস করছিলেন।

জুলিয়ান আসঞ্জের ভক্তরা তাকে একজন সত্যানুসন্ধানী বলে মনে করলেও তার সমালোচকরা ভিন্ন মত পোষণ করেন৷ তাদের ধারণা, তিনি একজন প্রচারকামী। যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন তাদের মতে, তিনি এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী৷ তার কম্পিউটারের সাংকেতিক বার্তা ভেদ করার চমকপ্রদ ক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সূত্রে খবর, তিনি নাকি অনেকদিন না খেয়ে থাকতে পারেন এবং খুবই কম সময় ঘুমিয়েও কাজে মনঃসংযোগ রাখতে পারেন।