প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে বুধবার সকাল থেকে সচল হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জন্য কেন্দ্র তথা রাজ্য সরকার উভয়ে লক ডাউন ঘোষনা করার পর থেকেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সমস্ত জুট মিলগুলির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত মিলগুলিও। ফলে আর্থিক সমস্যায় পরতে হয়েছে জুটমিল শ্রমিকদের। কিন্তু পঞ্চম দফা লক ডাউন ঘোষনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে খুলে দেওয়া হল ওই সমস্ত জুটমিলগুলি।

তবে সরকারের দেওয়া গাইড লাইন মেনেই কল কারাখানাগুলিতে শুরু হল উৎপাদন। সরকারী নির্দেশ মেনে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সমস্ত জুটমিলগুলিতেই শ্রমিকরা মাস্ক পড়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে কর্তিপক্ষের পক্ষ থেকে। বুধবার স্থানীয় জুটমিলের শ্রমিকদের সম্পূর্ণ জীবানুমুক্ত করে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে তাদের জুটমিলে প্রবেশ করানো হয়েছে।

জুটমিলের শ্রমিকদের দেখা গেল আনন্দের সঙ্গে তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। সুশৃঙ্খল ভাবে নিয়ম মেনেই বারাকপুর মহকুমার বিভিন্ন জুটমিলে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গিয়েছে এদিন। রাজ্য সরকারি নির্দেশ মেনে জুটমিলের প্রত্যেক মেশিনের দূরত্ব ৬ ফুট রাখা হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া যেমন চালু হল, তেমনি শ্রমিকরাও ভীষন খুশি হয়েছে কাজ ফিরে পাওয়ায়।

ভিন রাজ্যে ফিরে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা না থাকায় আপাতত স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়েই উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জুটমিল গুলো সচল হল। এদিন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জুট মিল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয় “আমরা সরকারী নির্দেশ মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদেরকে কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। আগের তুলনায় মিলের মেশিনগুলির মধ্যেও দুরত্ব বজায় রাখা হয়েছে যাতে কাজ চলাকালীন ও শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারেন।

সেই সঙ্গে মিলের বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় সাবান রাখা হয়েছে যাতে শ্রমিকরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত পরিষ্কার করতে পারেন। তবে লক ডাউনের ফলে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেছেন তাই এখন মিলে শ্রমিক সংখ্যা কম রয়েছে।”

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের জুটমিল গুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেওয়ায় কারখানার শ্রমিকরা খুবই খুশি হয়েছেন। লক ডাউনের ফলে মিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক মিল শ্রমিকরাই সঠিক সময়ে বেতন পাননি। ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছিলো। মিলে উৎপাদন শুরু হওয়ায় শ্রমিকরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।