কলকাতা:  বিধায়ক খুনে আরও কড়া রাজ্য সরকার। ঘটনার পরেই সাসপেন্ড করা হয় হাঁসথালি থানার ওসি অনিন্দ্য বোসকে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাসের দেহরক্ষী প্রভাস মণ্ডলের বিরুদ্ধেও। খতিয়ে দেখা হবে ওসি এবং দেহরক্ষীর ভূমিকা। প্রয়োজনে তাঁদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে শনিবার একদিনের ছুটি চেয়ে নেন দেহরক্ষী প্রভাস মন্ডল। কোনও অফিসিয়াল নয়, মৌখিকভাবে জানিয়েই বিধায়কের কাছ থেকে ছুটি চেয়ে নেন প্রভাস। আর শনিবার এই মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনার পরেই দেহরক্ষীকে সাসপেন্ড করা হয়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল।

অভিযোগ, ছুটির জন্য কোনও কোনওরকম অফিশিয়াল দরখাস্ত করেননি তিনি। মৌখিকভাবে জানিয়ে ছুটি নেন। বিধায়কের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না করেই শনিবার ছুটিতে চলে যান তিনি। কীভাবে এই ছুটে পেলেন প্রভাস? কেন অন্য বডিগার্ড দেওয়া হল না? সেই বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, খুনের ঘটনায় নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগে রবিবার সকালেই হাঁসথালি থানার ওসির পদ থেকে সরানো হয় ওসি অনিন্দ্য বোসকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ওসিকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে প্রত্যক্ষদর্শী সবাই অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় গলদ ছিল। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ ছিল, মাজদিয়া-ফুলবাড়ির ওই সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাস সহ উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী রত্না ঘোষ (কর)। কিন্তু, একজন মন্ত্রী বা বিধায়ক কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে, যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা, তার বিন্দুমাত্র ছিল না কাল। মন্ত্রী-বিধায়কের অনুষ্ঠানে কোনও পুলিশ-ই ছিল না বলে দাবি করেছেন তাঁরা। আর এরপরেই ওসিকে সাসপেন্ড করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল।