জুকারবার্গের একটি ফাইল চিত্র

নিউ ইয়র্ক: সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের কর্ণধারকে  আইনজীবীর কাছে নথি জমার নির্দেশ দিল নিউ ইয়র্কের একটি আদালত। শুক্রবার আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী সোমবারের মধ্যে বিপক্ষের আইনজীবীর আবেদন মেনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

সম্প্রতি পল সেগলিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, পল অনৈতিক উপায়ে ফেসবুকের এক বৃহৎ অংশের মালিকানা দাবি করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আদালতে অভিযোগ করার পর বিচারক ফেসবুক ও তার মালিক জুকারবার্গকে এই নির্দেশ দেন। যদিও ফেসবুকের তরফে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল, পল ধরা না পড়া পর্যন্ত নথিগুলি প্রকাশ করা যাবে না। আদালত ফেসবুকের আবেদন নাকচ করে আগামী সোমবারের মধ্যে পলের সঙ্গে ২০০৩ সালে ফেসবুকের ১৮ মাসের যে চুক্তি হয়েছিল তার যাবতীয় নথিপত্র ইলেক্ট্রনিক কমিউনিউকেশন-সহ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পল একাই নয়, পলের স্ত্রী, দুই সন্তান এমনকি বাড়ির পোষ্যও পলাতক। গত সপ্তাহের এক শুনানিতে সেগলিয়ার বাবা দাবি করেন, সেগলিয়া পালিয়েছে কারণ সে মনে করছিল, ফেসবুকের মালিক আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁকে ফাঁসানো হতে পারে।

২০১০ সালে মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র থাকাকালীন তাঁকে ১০০০ ডলার ধার দেন পল। বিনিময়ে জুকারবার্গ পলকে ফেসবুকের ৫০ শতাংশ মালিকানা দেবেন বলে নাকি ই মেল-এ উত্তর দিয়েছিলেন। যদিও এখন ফেসবুক কর্ণধারের দাবি, তিনি মোটেও ওরকম কোনও চুক্তি করেননি পলের সঙ্গে। বরং পল নিজেই ২০০৩ সালে সফটওয়্যার সম্পর্কিত একটি ই-মেল কথোপকথনকে অসৎ উপায়ে বদলে এই ৫০ শতাংশ মালিকানার মেলটি আসল বলে দাবি করছেন। মার্কের দাবির স্বপক্ষে তাঁর আইনজীবী হার্ভার্ডের কম্পিটারের ই-মেল আর্কাইভের ফরেনসিক অ্যানালিসিসের রিপোর্ট পেশ করেছেন আদালতের কাছে। আদালত দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সেই সময় পল ও মার্কের মধ্যে যে ই-মেলগুলি চালাচালি হয়েছিল সেগুলো দেখতে চেয়েছে।