স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: শিশুদের দিয়ে অশালীন কাজে ধৃত শিক্ষকের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করল আদালত। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানার ভোওর এলাকার ঝারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের দিয়ে অশালীন কাজ করানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল শিক্ষক মিন্টু সেনকে।

তার বিরুদ্ধে অশালীন কাজকর্মের পাশাপাশি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। বালুরঘাটের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা ওই শিক্ষককে মঙ্গলবার পুলিশ বালুরঘাটে জেলা আদালতে হাজির করে। আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা (প্রথম) বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে আদালতের সহকারী আইনজীবী অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিচারক অভিযুক্ত শিক্ষক মিন্টু সেনের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের দাবি ছিল, ঝারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন মিন্টু সেন৷ কিন্তু স্কুলের বেশ কিছু পিরিয়ড হয়ে গেলে ছোট ছোট শিশুদের তিনি তার নিজের ঘরে ডাকত৷ আর তারপরই নানা অশালীন কাজ করতেন তিনি বলে অভিযোগ৷ শিশুরা প্রথমে অভিভাবকদের এই বিষয়ে বললেও তারা কোনও রকম ভ্রূক্ষেপ করেনি৷ কিন্তু পরে যখন বিষয়টি গাঢ় হতে থাকে অভিভাবকরা সতর্ক হয়ে ওঠেন৷ তাঁদের সন্দেহ হলে তাঁরা একদিন স্কুলে হানা দেয়৷

আর সেখানেই অভিভাবকরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই শিক্ষককে। স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। ওই অঞ্চল সংলগ্ন ভোওরের বাসিন্দা অনিল টিজ্ঞা অভিযোগ করে বলেন,‘‘এই শিক্ষক বহুদিন ধরেই এমন অপকর্ম করে চলেছেন। এর আগেও তাকে হাতেনাতে ধরে সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবার তিনি শিশুদের ঘরে ডেকে নিয়ে অশালীন কাজ করানো শুরু করেছিলেন। বুধবার শিশুরা বাড়ি ফিরে এই ব্যাপারে নালিশ করলে বিষয়টা জানতে পারা যায়৷’’