দেশের প্রথম লাইসেন্স প্রাপ্ত পাইলট হলেন জেআরডি টাটা, ১৯২৯ সালে তিনি সেই লাইসেন্স পেয়েছিলেন৷ জাহাঙ্গীর রতনজী দাদাভাই টাটার জন্মদিন আজ ৷ টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন এই চেয়ারম্যান সংক্ষেপে জেআরডি বলেই পরিচিত ছিলেন৷ এক নজর দেখে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তী শিল্পপতির সম্পর্কে নানা তথ্য৷

১৯৪৮ সালে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল তৈরি করেন তিনি৷
স্যার দোরাভাই টাটা ট্রাস্টের সদস্য ছিলেন এবং তাঁরই উদ্যোগে ১৯৪১সালে দেশের প্রথম ক্যান্সার হাসপাতাল টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার গড়ে ওঠে বম্বেতে৷

১৯৮৩ সালে তিনি পান ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সন্মান লিজিয়ন দ্য অনর এবং ১৯৯২ সালে পান ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ভারতরত্ন৷

তবে জেআরডি ঘিরে বিতর্কও রয়েছে কারণ তিনি ইন্দিরাগান্ধীর জরুরি অবস্থা জারির সমর্থক ছিলেন৷ নিউইয়র্ক টাইমস সংবাদ পত্রের এক রিপোর্টারকে এই বিষয়ে মত প্রকাশও করেছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন ‘‘পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল৷ বয়কট ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের জেরে সেই সময় আমাদের অবস্থাটা কল্পনা করা যায় না৷ কেন সেই সব দিনে আমি আমার অফিসের বাইরে রাস্তায় হেঁটে চলে বেড়াতে পারতাম না৷ এমন সংসদীয় ব্যবস্থা আমাদের জন্য উপযুক্ত নয়৷’’

১৯০৪ সালের ২৯ জুলাই প্যারিসে জন্ম হয় এই মহান শিল্পপতির৷ টাটা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজি টাটার জ্ঞাতি ভাই রতনজি দাদাভাই টাটা এবং তাঁর ফরাসি স্ত্রী সুজানের দ্বিতীয় পুত্র হলেন তিনি৷ তিনি শিক্ষা লাভ করেন ফরাসি জাপান এবং ভারত থেকে৷ তবে ১৯২৯ সালে তিনি ফরাসি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে একেবারে একজন ভারতীয় হয়ে ওঠেন৷ তবে তার আগে ফরাসি নাগরিক হিসেবে সেখানে তাঁকে এক বছর জন্য সেনাবাহিনীতে ছিলেন৷

১৯২৫ সালে তিনি টাটা গোষ্ঠীতে বিনা বেতনে অ্যাপ্রেন্টিস হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৩৮ সালে ৩৪ বছর বয়েসে টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন৷ তিনি যখন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হন তখন ১৪টি সংস্থা ছিল ওই গোষ্ঠীর হাতে ৷ তার থেকে প্রায় অর্ধ শতক সময়ে ১৯৮৮ সালে যখন ওই পদ থেকে তিনি অবসর নেন তখন গোষ্ঠীর হাতে ৯৫টি সংস্থা ৷ এই সময়ে এই ১০০ মিলিয়ন ডলারের গোষ্ঠীকে তিনি ৫ বিলিয়ন ডলারের গোষ্ঠীতে পরিণত করেন৷

তিনিই প্রথম ভারতের কর্পোরেট জগতে কর্মী কল্যাণ প্রকল্পে নজর দেন ৷ যার জেরে কর্মীদের দিনে আট ঘন্টা কাজ, বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা,দুঘর্টনায় ক্ষতিপূরণ প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি চালু করেন৷ যা পরবর্তীকালে সরকার গ্রহণ করে গোটা দেশে তা বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনে৷

১৯৯৩ সালে ৮৯ বছর বয়েসে তাঁর মৃত্যু হয়৷ তাঁর মৃত্যুতে সংসদ মুলতুলি হয়েছিল যদিও সাধারণত সংসদের সদস্য না হলে তা হয় না৷ তাঁকে প্যারিসেই সমাহিত করা হয়৷