নয়াদিল্লি: মোদীর বিপুল জয়ের পিছনে সবথেকে বড় ভূমিকা অমিত শাহের। একাধিক নির্বাচনে জয়ের পিছনে তিনিই মাস্টারমাইন্ড। কিন্তু এবার তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই সভাপতির পদ আপাতত সামলাতে হবে অন্য কোনও নেতাকে।

সোমবার বিজেপির কার্যকরী সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডাকে বেছে নিল বিজেপি। এদিন জেপি নাড্ডার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ‘অমিত শাহের নেতৃত্বে একাধিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। কিন্তু বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই তিনি নিজে থেকেই দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছেন। দল কার্যকর সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডাকে বেছে নিয়েছে।’

প্রথম মোদী সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন জে পি নাড্ডা। তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে অমিত শাহের ব্যাটন। শাহের সঙ্গে কথা বলেই তিনি কাজ করবেন বলে জানা গিয়েছে। কারণ সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচন। আর সেখানে জয় ধরে রাখাটা বিজেপি শিবিরের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভবত জুলাইয়ের শুরুর দিকেই পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে নতুন সরকার। এরপর সেপ্টেম্বরে নির্বাচন রয়েছে মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও হরিয়ানায়। সেখানেই শেষ হয়। ভোট হবে জম্মু ও কাশ্মীরেও। আর কর্ণাটকে যে রাজনৈতিক দোলাচল তৈরি হয়েছে, তাতে সেই রাজ্যেও ভোট হতে বেশি দেরি নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যসভার সদস্য জেপি নাড্ডা। খুব বেশি শিরোনামে না থাকলেও বিজেপির অন্দরে তিনিই যে অন্যতম স্ট্র্যাটেজিস্ট, তা অনেকেই মনে করেন। তাঁকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিয়েছিল বিজেপি। আর লোকসভায় সেই রাক্যে ৮০-টির মধ্যে ৬২টি আসন পেয়েছে দল। কংগ্রেস ও অখিলেশ-মায়াবতীর তীব্র বিরোধিতাওহার মেনেছে বিজেপির স্ট্র্যাটেজির কাছে।

পাটনার সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে পড়াশোনা করেছেন জেপি নাড্ডা। পাটনা কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর হিমাচল প্রদেশে ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি পাশ করেন। হিমাচলে পরপর তিনবার বিধায়ক হন তিনি। ২০১৪-তে মন্ত্রী হন মোদী সরকারে।

দায়িত্ব নিয়েই নাড্ডা দক্ষিণ ভারতের দিকে মন দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তেলেঙ্গানার মত রাজ্যে মাত্র ৪টি আসন এসেছে বিজেপির হাতে।