কলকাতাঃ  খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিজেপিতে যোগদান শুধু নাকি সময়ের অপেক্ষা। এমনটাই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভাবী সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর এহেন মন্তব্য ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে এই বিষয়ে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে কার্যত তা এড়িয়ে যান। সরাসরি তা এড়িয়ে যান। আর এরপরেই বিষয়টি নিয়ে আরও জল্পনা তৈরি আকার নিয়েছে।

একের পর এক পুরসভা হাতছাড়া হচ্ছে। বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক। এই অবস্থায় নিজের গড় বাঁচানো বড় চ্যালেঞ্জ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার বৈঠকে বসে তৃণমূলের কোর কমিটি। বৈঠকে কীভাবে পুরসভা গুলিকে পুনরুদ্ধার করা যায় তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, উত্তর ২৪ পরগণায় একের পর এক তৃণমূল কার্যালয়গুলিও হাতছাড়া হচ্ছে। এলাকা ছাড়া হচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা। এই অবস্থায় নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসে কোর কমিটি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

আর সেখানে অর্জুন সিংয়ের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীকে। তাঁর বিজেপি যোগের বিষয়ে সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, “টার্টেগটা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা । এসব করেও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমাকে ভয় দেখানো যায় না, চমকানো যাবে না, যা ভাবছে তা কোনওটাই করা যাবে না।”

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল থেকে বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন অর্জুন সিং। সেই ভাবেই অর্জুন সিং সম্প্রতি দাবি করেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন । যিনি কিনা তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন। এরপরেই জল্পনা তৈরি হয়।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগণার তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার পথে হালিশহর, নৈহাটি, কাচরাপাড়া পুরসভা। ভাটপাড়া পুরসভাতেও সংখ্যালঘ তৃণমূল কংগ্রেস। এই জেলা থেকেই বিজেপিতে যেতে পারে একাধিক বিধায়কও। এই অবস্থায় নিজের গড় সামাল দেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ জ্যোতিপ্রিয় তথা তৃণমূলের কাছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।