বাসুদেব ঘোষ, রামপুরহাট: সেলুনে সেলুনে ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই হাল৷ শনিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল সিউড়ি সদর শহর, রামপুরহাট সহ বীরভূম জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা৷ হলটা কি, সকলে একসঙ্গে সেলুনমুখী কোন? সিউড়ির একটি সেলুনে পা রাখতেই রহস্যের পর্দা ফাঁস হল৷ ‘জয় শ্রীরাম’ হেয়ার কার্টিংয়ের দৌলতে উপছে পড়ছে যুব প্রজন্মের ভিড়৷ কারণ, রাত পোহালেই রবিবার যে রাম নবমী৷

অগত্যা, মাথার পিছনের একটি অংশের চুল রেখে বাকি পুরো মাথা ন্যাড়া করে সেখানে জয় শ্রীরাম লেখা হচ্ছে৷ কার্টিংয়ের চার্জ ৩০ থেকে ৬০ টাকা৷ এছাড়া চুলে জয় শ্রীরাম ছাঁটের ওপর গেরুয়া রঙ করতে চাইলে অতিরিক্ত আরও ৪০-৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে৷

বিজেপির স্থানীয় এক যুব কর্মী রঞ্জন মাইতি জানালেন, ‘‘রবিবার জয় শ্রীরাম কার্টিং নিয়েই মিছিলে হাঁটব৷ তাই এই হেয়ার কার্টিং৷’’ রামপুরহাটের এক সেলুন দোকানী রমেন দাস বললেন, ‘‘সকাল ৭টা দোকান খুলেছি৷ এখন ১১টা বাজে৷ আরও ৬ জনের রাম নবমী হেয়ার কার্টিং করতে হবে৷ এবারে এই হেয়ার কার্টিংয়ের এত হিড়িক যে ঠিক করে নাওয়া খাওয়ার সময় পর্যন্ত পাইনি৷ তবে একদিনেই অন্তত ৫ দিনের রোজগার হয়ে গেল৷’’

বীরভূম একসময় ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি৷ পালাবদলের বাংলায় বাম উবে ঘাসফুলের রমরমা৷ এহেন বীরভূমে ক্রমেই গেরুয়া ঝড় বাড়তে থাকায় স্বভাবতই উৎফুল্ল বিজেপি শিবির৷ দলের জেলা সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল বলছেন, ‘‘তৃণমূলের সুদিন শেষ৷ ওদের অত্যাচার বাম আমলকেও ছাপিয়ে গিয়েছে৷ সাধারণ মানুষ তো বটেই শাসকদলের এখনকার নেতাদের দাপটে আদি তৃণমূলীরাও অতিষ্ঠ৷ স্বভাবতই যুব সমাজ গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন৷’’

যদিও সিউড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা বিদ্যাসাগর সাউ বলেন, ‘‘রামনবমী একটা ধর্মীয় ব্যাপার৷ জয় শ্রীরাম, জয় কালী যে যা খুশি হেয়ার কার্টিং করতেই পারেন৷ এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার৷’’ একই সঙ্গে তাঁর জোরালো দাবি, ‘‘কে্উ কেউ হয়তো মাথায় জয় শ্রীরাম হেয়ারকার্টিং লিখছেন৷ কিন্তু তার মানে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই, জেলায় গেরুয়া ঝড় ভইছে৷ ওরা (বিজেপি) শত চেষ্টা করেও বীরভূমের মাটিতে দাঁত ফোটাতে পারবে না৷’’

ইতিমধ্যে গত চার মাসে একাধিকবার বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ মুকুল রায়৷ বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে শাসকদলের দাপুটে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, ‘‘রাজ্যের অন্যত্র যাই হোক, বীরভূম জেলা পরিষদ আমরা এবারে দখল করবই৷ এটা আমার চ্যালেঞ্জ৷’’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তারপর থেকেই বীরভূমে গেরুয়া ঝড় বাড়তে শুরু করেছে৷ মুকুল রায়ের চ্যালেঞ্জই কি বাস্তবায়িত হতে চলেছে? যুব সমাজের মধ্যে জয় শ্রীরাম হেয়ার কার্টিংয়ের হিড়িক থেকে ক্রমেই এই জল্পনা জোরালো হচ্ছে৷