পূজা মন্ডল: বিতর্ক-পাল্টা বিতর্ক। রামেদের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি কিছুদিন আগে তৃণমূল শিবিরের জন্য রণ-হুঙ্কারে পরিণত হয়েছিল। রামেদের এই শ্লোগানে মুখ্যমন্ত্রীর নানা আচরণ নিয়ে সমালোচনা মুখর হয়েছিল সমাজের বিভিন্ন মহল। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই প্রশমিত। উত্তেজনা সামলে নিয়ে গেরুয়া শিবিরের শ্লোগানের পাল্টা শ্লোগান বেঁধে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর সেই শ্লোগান ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা।’ বলা চলে, বর্তমানে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের মন্ত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এই শ্লোগান ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা।’ রাজ্য জুড়ে সৌহার্দ্য বজায় রাখতেই এই শ্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মত তৃণমূল শিবিরের।

তাই বিষয়টা যখন সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যে বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই, তখন ‘রাখী উৎসব’ থেকেই বা কি করে ব্রাত্য থাকতে পারে এই মহামন্ত্র? বিশেষ করে রাখী উৎসবের আগে আগেই যখন এমন সম্প্রীতি মন্ত্র বেঁধে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী! তাই এই কথা মাথায় রেখেই বাংলার রাখী উৎসবেও জায়গা করে নিয়েছে এই মন্ত্র। কিভাবে? এবছর স্বাধীনতা দিবসের দিনই রাখী পূর্ণিমা। মুক্তির পুন্যলগ্নে বাঁধা পড়বে সৌহার্দ্য। মুক্তির তিয়াত্তর বছরে এবার তাই নতুন চমক। রাখীর বাজার মাতাতে এবার হাজির ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা’ রাখী।

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার রাখী কারখানাগুলি বরাত পেয়েছে এই সরকারি রাখী তৈরির। তেমনই বর্ধমানের কালনা শহরের একটি রাখী তৈরির ক্লাস্টারও এই বরাত পেয়েছে। সরকারি নির্দেশে এই ক্লাস্টারেই তৈরি হচ্ছে নীল-সাদা রঙের ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা’ রাখী।

রাখী তৈরির জন্য এমনিতেই প্রসিদ্ধ বর্ধমানের কালনা শহর। এবার বাংলা হরফে লেখা ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা’ রাখী কালনার সেই ঐতিহ্যের মুকুটে আরও এক নতুন পালক যোগ করল। ইতিমধ্যেই বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছে এই রাখী। রাজ্য সরকারের যুব কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে বরাত পেয়েছে রাখী প্রস্তুতকারী ওই সংস্থা।

রাখী উৎসবের দিন সরকারি উদ্যোগে নানান জায়গায় এই ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা’ রাখী পরিয়েই সম্প্রীতি বজায় রাখবে তৃণমূল বলে জানা গিয়েছে। জন প্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক দফতরের কর্মী সকলেই এই রাখী পরিয়েই পালন করবেন রাখী উৎসব।

সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা’ শ্লোগান সামনে আনেন। তাই রাখী বন্ধনের দিন এই শ্লোগানকে পাথেয় করেই রাজ্যে সংহতি বজায় রাখার পথে নতুন এক মোড় আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। আর সেই লক্ষেই এখন কর্মব্যস্ত কালনার রাখী শিল্পীরা।

প্রাথমিক ভাবে, প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ রাখী তৈরির বরাত পেয়েছিলেন তাঁরা। আরও কয়েক লক্ষ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ রাখী রাজ্য যুব কল্যাণ দফতরে পাঠাবেন তাঁরা।

‘কালনা রাখী’ নামে ওই রাখী ক্লাস্টারের সভাপতি তপন ভৌমিক জানিয়েছেন, শুধু সরকারের জন্যই নয়, বাইরের বাজারেও এই রাখী বিক্রি করা হবে। তার জন্য প্রায় তিনশো কর্মী অনবরত পরিশ্রম করে চলেছেন।

এদের মধ্যেই একজন রাখী শিল্পী মাধুরী ব্যানার্জির কথায়, আমরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছি। এই রাখী তৈরী করে আমাদের দ্বিগুণ আয় হয়েছে। তাই এমন বরাত সারা বছর পেলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।