কলকাতা: যাদবপুর ইস্যুতে চুপ করে থাকতে পারেননি প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী ঊর্মিমালা বসু। আরও অনেক শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মতোই মুখ খোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, “বাবুলের উচিৎ বাচ্চাগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।” এর পরেই তাঁর ওপর আক্রমণ নেমে আসে। বিজেপি সমর্থকরা ঊর্মীমালা বসুকে ‘যৌনদাসী’ বলে আক্রমণ করেন। ঘটনার সমালোচনায় সরব হন সংবেদশীল মানুষেরা।

ঊর্মিমালা বসুকে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন কবি জয় গোস্বামী, মন্দাক্রান্তা সেন-সহ আরও অনেকে। ধিক্কারে ছেয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। জয় গোস্বামীর মেয়ে দেবর্থী গোস্বামী (বুকুন চড়াই) তাঁর ফেসবুক দেওয়ালে সোমবার রাতে পোস্ট করেন কবির হাতে-লেখা বিবৃতি। কবির বিবৃতি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে জয় গোস্বামী লিখেছেন: “শ্রীযুক্তা ঊর্মিমালা বসু একজন সর্বজনমান্য শিল্পী। তাঁর গুণমুগ্ধ অসংখ্য অনুরাগীর মধ্যে আমিও একজন। সেই শিল্পীকে এমন ভাষায় অপমান করা হল যা চরম অশালীনতায় ভরা। সেই সঙ্গে এ কথাও মনে আসছে যে তিনি একজন নারী। এবং নারী বলেই তাঁকে এমন অপমান সহ্য করতে হল।

এরা কারা? কাদের এমন নোংরা মন? আমি এদের, এই বিজেপি সমর্থকদের আমার ধিক্কার জানাচ্ছি। আশা করব সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক এমন উক্তির তীব্র প্রতিবাদ করবেন।” অন্যদিকে কবি মন্দাক্রান্তা সেন মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক দেওয়ালে কবিতার মধ্যে দিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন।

মন্দাক্রান্তা লেখেন, কাকে কী বলছে কে বানর অবতার, আমরা আজকে জিভ ছিঁড়ে দেবো তার/ মানুষ হোসনি ইতর অশিক্ষিত/ তারই প্রমাণ তোর আচরণটি তো/ জানো না হে কত বেড়েছে তোমার বাড়, সহ্য করি না সহ্য করি না আর, নারী বলতে কি একটাই কথা জানো? নোংরা কথায়, হায়, মা’কে টেনে আনো?/ তোমার কথায় মা’ রও অপমান নাকি? কান খুলে শোনো, বদলা রয়েছে বাকি।

কবিতাটির তলায় মন্দাক্রান্তা পাঠকের উদ্দেশে অনুরোধ করেন, ‘হ্যাশট্যাগ সহ ছড়িয়ে দিন: #আমিও_যৌনদাসী’। কিছুদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। পরে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে জট কাটে। তিনি নিজে এসে মন্ত্রীকে উদ্ধার করেন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।