স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: শনিবার ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন৷ আর সেই উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদানও করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি)৷ কিন্তু সেই প্রসঙ্গকে টেনে রবিবার একটি সভায় বিস্ফোরক হলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন হাওড়ার শ্যামপুর পঞ্চায়েতে সম্ভর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি৷ সেখানেই তিনি শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেন৷

তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদের মতো দেশ প্রেমিক খুব কম হয়৷ কিন্তু কাল ওঁনার মূর্তিতে যারা মালা পড়ালো তারা বহিঃশত্রুকে আহ্বান করে ভারতে ডেকে এনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়৷ তাই আমার মনে হয় ওই মূর্তিটিকে একবার ভাল করে গঙ্গা জলে ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন৷’’ পাশাপাশি, ববি হাকিমকে সাম্প্রদায়িকতা নিয়েও খোঁচা দেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তিনি আরও বলেন, ‘‘২৩ জুন আমাদের প্রাণপুরুষ আমাদের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তিরোধান দিবস ছিল৷ তিনি সেই সময়কার রাজনীতির ওপর কিছুটা অনিহাগ্রস্ত হয়েই একটা দল খুলেছিলেন৷ সেই দলটার নাম ছিল জনসংঘ৷ সেই জনসংঘই বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি৷ ওঁনার তিরোধান দিবসের পাশাপাশি জন্মদিনেও ভারতের বিস্তৃর্ণ এলাকায় তাঁকে সম্মান জানায়৷ তবে এসব ছাপিয়ে গিয়ে আমরা কাল একটা নতুন ঘটনা দেখলাম৷ রেড রোডের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের মূর্তিতে শ্রী ববি হাকিমের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকেরা গিয়ে মালা পড়ালো৷’’

প্রসঙ্গত, একটু ফিরে তাকালেই দেখা যাবে ক’দিন আগে মূর্তি ভাঙার রাজনীতি তীব্র ভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল৷ ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানের শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির নাক ভেঙে, কালিমালিপ্ত করে হাঙ্গামা বাঁধিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলি৷ শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি থেকে শুরু করে ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙা৷ যেন ফিরে এসেছিল সত্তরের দশকের সেই মূর্তি ভাঙার রাজনীতি৷ উঠেছিল অনেক প্রশ্ন৷ ক্যাওড়াতলার মূর্তিকে দুধ স্নান করিয়ে শুদ্ধ করতে পরদিনই সেখানে গিয়েছিলেন কিছু বিজেপি নেতা৷ কয়েকমাস আগের ওই ঘটনা এখনও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে দুঃস্বপ্ন৷

এত সব কিছুর মধ্যেই স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পুত্র, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ উপাধ্যক্ষ কিংবা ভারতীয় জন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন পালন করতে ভোলেনি রাজ্য সরকার৷ তৃণমূল নেতারা বলছেন, ‘‘হতে পারেন উনি জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা৷ কিন্তু বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তিনি এক অনন্য নাম৷ আবার যদি দেখেন, বাংলার বুদ্ধিজীবীরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান৷ সাত বছর আগে রাজ্যে পরিবর্তনও এসেছে৷ মমতাদির প্রশাসন বুদ্ধিজীবীদের সম্মান করে৷’’

তবে, রাজ্য সরকার কেন হঠাৎ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন পালন করতে গেল? এই প্রসঙ্গত, রাহুল সিনহা বলেছিলেন, ‘‘প্রথমত দেখুন, মাওবাদীদের পাঠিয়ে মূর্তি ভেঙেছিল রাজ্য সরকারই৷ এখন মূর্তি সারাই করে, শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন পালন করে পাপ ধুয়ে ফেলতে চাইছে রাজ্য৷ দ্বিতীয়ত, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর জন্য আজ কাশ্মীর ভারতের অঙ্গ, বাংলা ঐক্যবদ্ধ, তাঁকে সম্মান করার মধ্যে কোনও রাজনীতি থাকা উচিত নয়৷ দেরিতে হলেও রাজ্য সরকারের বোধদয় হয়েছে৷’’

রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায়নি৷ তবে ববি হাকিমকে দিয়ে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করিয়ে মমতা বিজেপিকে কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে৷ অনেকেই বলছেন, যে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ‘‘মুসলমানরা যদি পাকিস্তানে থাকতে চায়, তবে তাদের ব্যাগপত্তর গুছিয়ে ভারত ছাড়া উচিৎ … যেখানে তারা যেতে চায়৷’’ সেই শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে ববি হাকিমকে দিয়ে মাল্যদান করিয়ে দিদি মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন৷ দিদি বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশে সাম্প্রদায়িকতার জায়গা নেই৷