স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কেস আর ক্যাশ। এই দুই অস্ত্র নিয়েই রাজ্য পরিচালনা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন বিজেপিরজাতীয় নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তর ২৪ পরগনার আমডঙায় গত তিন দিন আমরন অনশন করছে বিজেপি। মরিচা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যদিও এই জটিলতা সৃষ্টির পিছেন শাসক তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।

ওই পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ২০। যার মধ্যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নয়টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। আটটিতে যেতে তৃণমূল। তিনটি আসন পেয়েছিল বামেরা। বোর্ড গঠনের বিষয়ে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেছিল বিজেপি। তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপিকে সমর্থন করতেও রাজি ছিল বামেরা। কিন্তু তাল কাটল তারপর থেকেই।

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের উপরে নানা উপায়ে চাপ সৃষ্টি করছে প্রশাসন। যার পিছনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক চাল রয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের। জামিন অযোগ্য ধারা দেওয়া হচ্ছে যাতে সহজে মুক্তি না মেলে। শুধু তাই নয়, এখনও বিজেপির এক জয়ী প্রার্থীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে স্থানীয় গেরুয়া নেতৃত্ব।

এদিন সেই অনশন মঞ্চে হাজির ছিলেন বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কেস আর ক্যাশ, এই দুই নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে।” বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “প্রথমে আমাদের কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের লোকেদের কেস দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। পরে টাকার লোভ দেখাচ্ছে। এই দুই অস্ত্রে কাজ না হলে গুম করে দিচ্ছে।”

মরিচা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি কী বোর্ড গঠন করতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে জয় বলেছেন, “রাজ্যের যেখানে সুস্থ ভোট হয়েছে সেই সব জায়গায় তৃণমূল জিততে পারেনি। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম সহ অনেক জায়গায় আমরা জিতেছি। তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে দেয়নি।” এরপরেই তৃণমূলকে আক্রমণ করে জয় বলেছেন, “গণতন্ত্র নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নরেন্দ্র মোদীর পা ধোয়া জল খাওয়া উচিত।” নিজের এই বক্তব্যের সমর্থনে জয় পাঁচ রাজ্যে বিজেপির পরাজয় এবং বিজেপি শাসিত তিন রাজ্যে হিংসামুক্ত ভোটের উদাহরণ দিয়েছেন।