স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: ছেদ পড়েছে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের দাম্পত্যে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কোনও যোগাযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে নিজের স্ত্রীকে ‘ছাড়া গরু’-র সঙ্গে তুলনা করলেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর। অন্যদিকে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় স্তরের নেতা। ২০১৪ লোকসভা এবং ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছেন। জিততে না পারলেও হাল ছাড়েননি। রাজনীতির ময়দানে মাটি কামড়ে পরে রয়েছেন। সেই সুবাদেই পৌঁছে গিয়েছেন মোদী-অমিত শাহের সুনজরে।

এক বছর আগে থেকে এই বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া দাম্পত্যে শুরু হয় বিবাদ। বিষয়টি অবশ্যই রাজনৈতিক। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এক জনসভায় দাঁড়িয়ে অনন্যা বলেন, “আমি এবং জয় দু’জনেই একসময় তৃণমূলের সৈনিক ছিলাম। কিন্তু এখন হতাশা থেকে জয় বিজেপি করছে।” জবাবে জয় বলেন, “আমি তৃণমূলের ভাড়াটে সৈনিক ছিলাম। অভিনেতা হিসেবে যেতাম।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলের অন্য কোনও ব্যক্তিকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ বলে জানান জয়।

বিয়ের সময়ে জয়-অনন্যা। ফাইল ছবি

সেই জল বেশি দূর গড়ায়নি। প্রায় একবছর পরে ফের চর্চায় উঠে আসেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রেও সৌজন্য সেই রাজনীতি। কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে তোলপার হয় রাজ্য রাজনীতি। এরই মাঝে প্রকাশ্যে আসে অনন্যা বন্দ্যোপধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্যাপশনে লেখা হয় ‘শোভন-বৈশাখী দ্বিতীয় পর্ব।’

তখনও একসঙ্গে। জয়-অনন্যা। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার দলীয় কর্মসূচীতে পশ্চিম বর্ধমানের দূর্গাপুরে হাজির ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে জয় বলেন, “১৬ বছর তিনি আমার স্ত্রী ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে আমাদের মধ্যে আর কোনও সম্পর্ক নেই।”

 

অনন্যাদেবীর পরিবারের পক্ষ থেকে জয়কেও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জয়। তিনি বলেছেন, “তৃণমূলে যোগ দিলে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল আমায়। কিন্তু আমি সাফ জানিয়ে দি যে মোদী জিকে ছেড়ে আমি যেতে পারব না। সবাইকে ছাড়তে পারলেও ওনা(মোদী)কে ছাড়তে পারব না। সেই কারণে অনন্যা আজ আমার কাছে নেই।”

পড়ুন: রত্নার পর অভিজিৎ-কে তলব ইডির

 

এরপরেই সাংবাদিক মহল থেকে ছোঁড়া হয় কড়া প্রশ্ন। অনন্যাদেবীর সঙ্গে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ছবি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অরূপ বাবুও কী শোভনবাবুর মতো একই দোষে দুষ্ট? সাংবাদিকদের এই ঘুরিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে একটু ফিচেল হাসি দিয়ে জয় বলেন, “ছাড়া গরু কোন মাঠে ঘাস খাবে সেটা তার ব্যাপার। সেটা তো আমি বলতে পারব না।”

দেখুন জয়ের বক্তব্যের ভিডিও: