সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিশ্বকবি লিখেছিলেন , ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’। ওদের দাবিও অনেকটা সেরকমই। সেই দাবীকে সামনে রেখেই ওরা যেন ফিরে যেতে চেয়েছে আদিম যুগে। বাড়িতে গাছের চারা বসিয়ে নয় , গাছের ছায়াকেই নিজেদের বাসভূমি বানিয়ে থাকছে ওরা কয়েকজন। উদ্দেশ্য গাছ বাঁচানো।

হাবড়া রেলস্টেশন থেকে ২নম্বর রেলগেট পেরিয়ে, বিডিও অফিসের উল্টো দিকে যশোর রোডের উপর একটি বট গাছের পাশেই ওরা বানিয়েছে ওদের ‘গাছ বাড়ি’। গাছের ডালের উপর বাঁশ দিয়ে বা কাটাকুটি করে নয় এক বিশাল বট গাছের তলায় খড়ের ছাউনি দিয়ে থাকছে ওরা। লক্ষ্য যশোর রোডের গাছ বাঁচানো।

যশোর রোডের গাছ বাঁচানোর তাগিদে আন্দোলনের সাথীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি বট গাছের তলায় বাঁশ, বিচুলি দিয়ে একটি চালাঘর বানিয়েছে। যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটির সদস্য সৌভিক মুখার্জি বলেন , “আমাদের এটা গত পাঁচ বছরের আন্দোলন। গাছ বাঁচানোর জন্য আমরা সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছি। এর জন্য শুনানি হয়েছে আগামী পয়লা জুলাই। তো এই একমাস আমরা এই গাছের পাশে গাছের সঙ্গে থাকব বলে ঠিক করি। সেই উদ্দেশ্যেই আমাদের গাছ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “আমরা এতদিন গাছের বাইরে থেকে আন্দোলন করেছি। এবার গাছের সঙ্গে থেকে এই আন্দোলন করতে চাইছি। দেশ বিদেশ থেকে গাছ প্রেমীরা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দিতে আসছেন। দিন রাত্রি আমরা গান করে, গল্প করে এখানেই থাকছি। এখান থেকেই পথ নাটিকা করার পরিকল্পনা করছি। এখান থেকেই লিফলেট বেলাবো আমরা।”

বিশাল বট গাছের গায়ের সমস্ত বিজ্ঞাপন তুলে,পরিষ্কার করে বানানো হয়েছে গাছ-বাড়ি। যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটির পক্ষে জানানো হয়েছে, গত দুবছরের গাছ বাঁচানোর এই লড়াইয়ের সমস্ত পজিটিভ দিকগুলি স্মরনে রেখে, ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে, যশোর রোডের এই ঐতিহ্যশালী শতাব্দী প্রাচীন গাছ গুলি বাঁচাতে, যান-জট মুক্ত যশোর রোডের পরিকল্পনাটিকে সাথে নিয়ে আরও একবার গাছের তলায় মিলিত হয়েছে তারা। আরও সংগঠিত ভাবে নিজেদের দাবির সাথে জোরালো অবস্থানে থেকে আন্দোলনে নামতে চাইছে তারা। কমিটির পক্ষে এও জানানো হয়েছে আপাতত এক মাস সময় ধার্য করা হলেও কোর্টের শুনানির সময় দীর্ঘায়িত হলে তাদের গাছের সঙ্গে থাকার সময়সীমাও বাড়বে।