সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আজ পর্যন্ত গোয়েবল্‌সকে ক’জন আম বাঙালি চেনে? তার চেয়ে অনেক বেশি কুখ্যাত হিটলার। কিন্তু গোয়েবল্‌সকেও এবার চেনাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপির দেশ চালনা ও তার বিরুদ্ধে কথা বলে যখন গান বানাচ্ছেন বুদ্ধিজীবীরা , ব্যবহার করা হচ্ছে গোয়েবল্‌সকে, ঠিক তখনই রাজ্য বিজেপি তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে এক গান বানিয়েছে। সেখানেও উপস্থিত সেই গোয়েবল্‌স। সেই যোসেফ গোয়েবল্‌স যিনি হিটলারের প্রধান সহযোগী ছিলেন। অর্থাৎ অত্যাচারের মুখ।

এই দেশেতেই থাকবো গানে বলা হয়েছে , ‘আমি গোয়েবল্‌সের আয়নায় ঠিক তোমাকেই দেখে ফেলেছি’। অর্থাৎ মোদী সরকার ও তাদের ভাবনাকে ফ্যাসিজমের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই গোয়েবল্‌সকে ব্যবহার করেই গান বেঁধেছে রাজ্য বিজেপি। গানের নাম ভুলিয়ে দেওয়া ইতিহাসের পুনর্মিলন। বাবুল সুপ্রিয় থেকে শুরু করে , রুদ্রনীল ঘোষ সবাই রয়েছে এই গানে। সেখানে গোয়েবল্‌সের নাম ব্যবহার করে বলা হয়েছে, ‘তুমি গোয়েবল্‌সের অনামিকা, গোটা ভোট ব্যাংক তোমার’। সরাসরি নাম না করে গানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখানে গোয়েবল্‌সের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। গানের প্রথম থেকেই অবশ্য রয়েছে এই দেশেতেই থাকবো গানের উত্তর দেওয়ার ভাবনা,যা গানের কথাতেই স্পষ্ট।

ঘটনাচক্রে গোয়েবল্‌সকেও একটু ভালোভাবে জেনে নিন। তাঁকে নিয়ে তো এত এক কোর্ট থেকে অন্য কোর্টে বল যাচ্ছে।
গোয়েবলস ১৯৩৩-৪৫ সাল পর্যন্ত নাৎসি জার্মানির প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন। বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা এবং ইহুদি বিরোধী তৎপরতার জন্য তিনি কুখ্যাত ছিলেন। জার্মানিতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক আক্রমণ সূচিত হয়েছিল তাতে তার হাত ছিল এবং এর ফলেই সেখানে ব্যাপক ইহুদি হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। ফ্রেঞ্চ অকুপেশন অব দ্য রূহর’র সময় তিনি নাৎসি পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং ১৯২৪ সালে এর সদস্য হন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে মাশুল দিতে হয়েছিল। তিনি কিছু নাটক এবং উপন্যাস লিখলেও প্রকাশকরা তা ছাপায়নি।

১৯২১ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি লাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেন। এছাড়া ব্যাংকের করণিক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৯৭ সালের ২৯ অক্টোবর জার্মানির প্রুশিয়ায় তার জন্ম হয়। ১৯৪৫ সালের শুরুতে সোভিয়েত ও মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা যখন রাইন নদী অতিক্রম করছিল তখনই তিনি বুঝতে পারেন জার্মানির পরাজয় অনিবার্য। ৩০ এপ্রিল হিটলারের আত্মহত্যার পর গোয়েবলস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ১ মে তিনি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেছিলেন যোসেফ গোয়েবল্‌স। এর আগে তারা নিজেদের ছয় সন্তানকে হত্যা করেছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।