লন্ডন: শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। এই আপ্তবাক্য মেনেই বোধহয় বুধবার রাতে লিগের শেষ ম্যাচে চেলসির মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। ট্রফি, পদক, আলোর রোশনাই, পোডিয়াম- সবকিছু প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ম্যাচ হেরে ট্রফি তুলতে হলে সেটা দৃষ্টিকটু হত বৈকি। তাই শুরু থেকেই লাগাতার আক্রমণে চেলসিকে ফালা-ফালা করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এদিন মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। অপরাজিত থেকে ‘ফাইভ স্টার’ শো’য়ে ঘরের মাঠে লিগ অভিযান শেষ করল জুর্গেন ক্লপের দল। তিন দশকের গ্লানি ঘুচিয়ে ট্রফি তুললেন লিভারপুল অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন।

উত্তেজক ম্যাচে এদিন চেলসিকে ৫-৩ গোলে হারাল লিভারপুল। ম্যাচের আগে জর্ডান হেন্ডারসন অনুরাগীদের বার্তা দিয়েছিলেন ঘরে বসে আনন্দের রাতটা সেলিব্রেশনের জন্য। কিন্তু বাস্তবে হল ঠিক উল্টোটাই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাদিও মানে, ফিরমিনোরা যখন ফাঁকা গ্যালারির সামনে ভিকট্রি ল্যাপ দিচ্ছেন, অ্যানফিল্ডের বাইরে তখন কাতারে-কাতারে সমর্থক প্রিয় নায়কদের একবার ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষায়। আলোর রোশনাই, ফুটবলারদের বাঁধভাঙা সেলিব্রেশনে অ্যানফিল্ড রাঙা হয়ে উঠলেও স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকতে হল সমর্থকদের।

চোটের জন্য শেষ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন অধিনায়ক হেন্ডারসন। তবে কথামতো কিংবদন্তি কেনি ডালগ্লিশের হাত থেকে ট্রফি তুললেন তিনিই। সঙ্গে ছিল হেন্ডারসনের পরিচিত নাচ ‘হেন্ডো শাফল’। পোডিয়ামে থেকে সমস্ত অনুষ্ঠান অনুরাগীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম লাইভ সেশনে ধরে রাখছিলেন মানে, উইনালডমরা। ক্লপ, ফিরমিনোদের শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসগুলো বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছিল এমন একটা রাত দেখার জন্যই হয়তো অনেক বিনিদ্র রাত কেটেছে সমর্থকদের। ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের এক ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, ‘লিভারপুল যেমন ক্লপকে বোঝে, ক্লপও ঠিক তেমনই লিভারপুলকে বোঝে।’ হয়তো তারই নির্যাস পরপর দু’মরশুমে দু’টো মেজর ট্রফি জয়।

ড্রেসিংরুমে গিয়েও ষোলোআনা বজায় ছিল সেলিব্রেশন। সতীর্থদের শ্যাম্পেন স্নান করালেন ভ্যান ডাইক, অ্যালিসন বেকাররা। ছাত্রদের সঙ্গে সমানভাবে তাল মেলালেন গুরু ক্লপ। সঙ্গে ট্রফিজয়ের সেলিব্রেশন থেকে বঞ্চিত সমর্থকদের বিশেষ বার্তায় ক্লপ জানালেন, ‘লিভারপুল পরিবার স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকলে আরও স্পেশাল হতো বিষয়টা। তবে এই খারাপ ভাইরাস নির্মুল হয়ে যাওয়ার পর পার্টির জন্য তৈরি থাকুন।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।